নয়াদিল্লি: কারগিল যুদ্ধের সময় ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের মূল ভুখণ্ডে ঢুকে বোমা ফেলার জন্যে তৈরি ছিল।  সেই মতো পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। কোথায় কীভাবে বোমা ফেলা হবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনার বোমারু পাইলটদের। শুধু তাই নয়, বিমান ভেঙে পড়লে একজন চালককে যা যা করতে হয়, সেভাবেই তৈরি থাকতেও বলা হয়েছিল।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই ভারতের বিমানবাহিনীকে পাকিস্তানের অধিকৃত কারগিল, দ্রাস সেক্টরে পালটা অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই অঞ্চল দুর্গম এবং পর্বতসংকুল হওয়ায় বিমান যোদ্ধাদের পক্ষে টার্গেটে বোমা ফেলতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাছাড়া, সেই সময়েই মিগ-২১য়ের দিন যে শেষ হয়ে এসেছে সেটা ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অতি উচ্চতায় যুদ্ধ করা মিগ-২১য়ের পাইলটদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

kargil-wer

কারগিলের যুদ্ধে বিমান বাহিনী যে সেভাবে সফলতা পাবে না, সেটা আরও বোঝা যায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কম্বমপতি নচিকেতা কারগিলের পাক হানাদারদের হাতে ধরা পড়ার পর। আমেরিকার কাছ থেকে পাওয়া স্টিঙ্গার মিসাইল নচিকেতার মিগ-২৭কে পেড়ে ফেলেছিল। ভারতের বিমানবাহিনীর এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সফেদসাগর’। তাতেই ঠিক ছিল, প্রয়োজনে ব্লিৎসক্রিগের কায়দায় একেবারে রাওয়ালপিণ্ডির পাক সামরিক সদর দফতরে সরাসরি আক্রমণ চালাবে ভারতের বিমানবহর।

যে কোনওভাবেই হোক, ভারতীয় বিমানবাহিনী যে এমন আঘাত হানতে চলেছে সেই খবর ইসলামাবাদে পৌঁছে যায়। পাক বিদেশ দফতরের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানত যে, একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট হস্তক্ষেপ করলে তবেই ভারত এই অভিযান থেকে নিরস্ত হবে। শেষ পর্যন্ত ভারতও আর পাকিস্তানের মূল ভুখণ্ডে বিমান অভিযান চালায়নি। তার কারণ, কারগিলে ততদিনে যুদ্ধ ভারতের অনেকটাই অনুকূলে এসে গিয়েছে। সুইডিশ বোফর্স পাক হানাদারদের মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে দিয়েছে। তার পরে পাহাড় বেয়ে উঠে বাকিদের দফারফা করে দেয় ভারতের বিখ্যাত নাগা রেজিমেন্ট। সেই সঙ্গে অন্যান্য ব্যাটেলিয়ানও।

air-force