স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: পেশায় ভিক্ষুক৷ কোনও রকমে দিন চলে তাদের৷ কিন্তু হঠাৎ আগুন তাদের মাথা গোঁজার জায়গাটাও কেড়ে নিল৷ জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অরবিন্দু জিপির রায় পাড়ার বাসিন্দা অনিল বর্মণ  এবং তাঁর স্ত্রী টগরবালা বর্মণ দুজনেই এই ঘটনায় আহত হন৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ অনিল বর্মণের বাড়িতে আগুন দেখতে পায় স্থানীয়রা৷ মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পরে গোটা গ্রামে। রায় পাড়ার গ্রামের সমস্ত মানুষরা এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তারাই খবর দেয় দমকলে৷ জলপাইগুড়ি দমকল বিভাগ থেকে দুটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়৷ কিন্তু শত চেষ্টার পরেও অনিল বর্মণের বাড়ি বাঁচানো যায়নি। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাড়িটি৷

আগুনে গুরুতর আহত অনিল বর্মণের স্ত্রী টগরবালা বর্মণ। বর্তমানে টগরবালা বর্মণ জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ভরতি৷ আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনিল বর্মণও। একটি মাত্র ঘরের মধ্যে থাকা তাদের সমস্ত জিনিস আগুনে পুরে ছাই হয়ে গিয়েছে। সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া অনিল বর্মণ ও তার শ্রী টগরবালা বর্মণ এখন কিভাবে সংসার চলবে সেটা ভেবে কুল পাচ্ছে না৷ দমকলবাহিনীর অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে৷ স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এই দরিদ্র পরিবারটিকে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে।

অন্যদিকে একই জেলার কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আগুন লাগে৷ আগুন লাগার ঘটনায় জলপাইগুড়ি সংশোধনাগারে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত জলপাইগুড়ি দমকলে খবর পাঠানো হয় সংশোধনাগারের তরফে। দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছায়৷ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল কর্মীরা।

সংশোধনাগারের সুপার রতন কুমার পাল জানান, জেনারেটরে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে দমকলের প্রাথমিক অনুমান। বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে অন্ধকারে মুখ ঢাকে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে তিনি জানান।