স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: ‘তোমরা ভালো থাকলে তবেই ভালো থাকতে পারব আমরা। তোমরা সুরক্ষিত থাকলে তবেই না দেশ সুরক্ষিত থাকবে’। এই কামনায় জওয়ানদের জন্য “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা” মন্ত্র পাঠ করলেন বোনেরা। দেশ সুরক্ষায় নিয়োজিত অতন্দ্র প্রহরীরদের দীর্ঘায়ু কামনায় ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌছে ভাইফোঁটা দিলেন বোনেরা।

মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে সুচেতনা, ঐশ্বর্য, ঐশী, সুবর্ণা রিংকা আগমনী নামের বোনেরা একযোগে শহর থেকে দূরে ডাঙ্গি সীমান্তে গিয়ে সেখানে প্রহরারত ভারতীয় সীমারক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টিমুখ করালেন। এদিন বোনেদের শঙখ ও উলুধ্বনি দিয়ে জওয়ানদের সুখী ও দীর্ঘায়ু জীবন কামনার মাধ্যমে দেশের মঙ্গল কামনা করেছেন। বাড়ি থেকে বহুদূরে এসে দেশ মাতৃকার সুরক্ষার ব্যস্ততার মাঝে বোনেদের এই উদ্যোগে খুশি জওয়ানরা। তাঁরাও বোনেদের আশীর্বাদ করার পাশাপাশি তাঁদের সদা সুরক্ষা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এদিন বোনেদের শঙখ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল ইন্দো-বাংলাদেশের ডাঙি সীমান্ত।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে পাঁচ বোন শিশির বিন্দু ধান দুব্বা শঙখ প্রদীপ ও চন্দন এবং মিষ্টি নিয়ে হাজির হন বালুরঘাটের দক্ষিণে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে। ডাঙ্গি বিওপি’র অধীন এই সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর আউটপোস্টে প্রহরারত জওয়ানদের প্রত্যেককে তাঁরা ভাইফোঁটা দেন। পরিবার থেকে দূরে দেশবাসী তথা দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ জওয়ানরা কি ভাইফোঁটার স্বাদ থেকে বিরত থাকবেন? সারা বছর যারা দেশের মঙ্গল কামনায় ব্রতী হয়ে দিনরাত এক করে সীমান্ত পাহারা দেয়, সেই সব ভাইদের কপালে ফোঁটা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করতে পেরে খুশি এই বোনেরাও।

মঙ্গলবারের ভাইফোঁটার এই অনুষ্ঠানের আয়োজক বোনেদের অন্যতম সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিভিন্ন উৎসবে পরিবারের সঙ্গে থেকে যখন নিজেরা সবাই আনন্দে মেতে উঠি। তখনও কিন্তু সেই আনন্দ থেকে শতহাত দূরে দেশের সুরক্ষায় অবিচল থাকেন এই সেনা জওয়ানরাই। দেশ ও দেশবাসীর সুরক্ষায় তাঁদের এই আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানিয়েই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। পরিবারের সদস্য হিসেবে জওয়ান ভাইদের কপালে তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনার ফোঁটা দিয়ে মুখমিষ্টি করাতে পেরে তাঁরা গর্বিত বলে জানিয়েছেন।

ডাঙ্গি বিওপি”র আধিকারিক অনিল কুমার জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বাঙালি অবাঙালি সকল জওয়ানই রয়েছেন। বাঙালীদের যেমন ভাইফোঁটা তেমনি অবাঙালীদেরও ভাইদূজ পরব রয়েছে। পরিবার থেকে বহুদূরে থাকায় এই পরব থেকে তাঁরাও বঞ্চিত থাকে। এমনকি দীপাবলীতেও সেভাবে আনন্দ করতে পারেননা অতিন্দ্রপ্রহরী জওয়ানরা। এমতাবস্থায় বোনেদের এই উদ্যোগে তাঁরা খুবই আহ্লাদিত। নির্জন সীমান্তে থেকেও বোনেদের এই ভাবনা তাঁরা সত্যিকারের পারিবারিক উৎসবের আনন্দ নিতে পেরেছেন।