প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: রাস্তায় পড়ে থাকা অসুস্থ রোগীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে ওই রোগীর প্রাণ বাঁচাল কলকাতার এনআরএস হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরা এক বৃদ্ধা নার্স৷

ওই বৃদ্ধা নার্সের নাম জানা গিয়েছে খুকু ঘোষাল, ওই সেবিকার বাড়ি ইছাপুর অঞ্চলে৷ তিনি কলকাতার এনআর এস হাসপাতালে কর্মরত৷ একটানা তিনদিন এনআরএস হাসপাতালে ডিউটি করে ক্লান্ত শরীরে শুক্রবার দুপুরে ইছাপুরে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন৷ বাড়ি ফেরার পথে খেয়াল করেন, রাস্তায় পড়ে কাঁপতে থাকা অসুস্থ ওই রোগীকে দেখে এড়িয়ে যাচ্ছিল এলাকার বাসিন্দারা৷ ইছাপুর রামনগর এলাকায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে ছিল ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরীর কর্মী ওই রোগী৷

অনেকেরই ধারণা ছিল রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ ব্যাক্তি করোনা আক্রান্ত৷ তাই কেউই স্পর্শ করছিল না ওই রোগীকে৷ কলকাতার এনআরএস হাসপাতালের বৃদ্ধা নার্স এই দৃশ্য দেখে এগিয়ে আসেন ওই রোগীর সহায়তায়৷ প্রথমে ওই রোগীর চোখে মুখে জল দিয়ে ওই রোগীকে কিছুটা সতেজ করেন তিনি৷ এরপর এলাকার ২ সমাজসেবী দয়িত লাহিড়ী ও তার এক বন্ধুকে সাহায্যের জন্য ডেকে নেন৷ ওই রোগীকে টোটো করে নিয়ে সকলে মিলে পৌঁছে দেন ইছাপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি হাসপাতালে৷ সেখানে ওই রোগীকে ভর্তি করে নেওয়া হয়৷ সেখানেই চলছে ওই রোগীর চিকিৎসা৷

 ওই রোগীর নাম রাজ কুমার চামার৷ তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর এলাকাতেই৷ কোনভাবে সে অসুস্থ হয়ে রামনগরে রাস্তার ধারে পড়ে যায়৷ ওই রোগীর জামার পকেট থেকে একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করে হাসপাতালের ডাক্তাররা৷ তা থেকেই জানা যায় ওই রোগীর নাম ও পরিচয়৷ ওই রোগী ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরিতে কর্মরত বলে জানা যায়৷ তাকে যথা সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে৷

খুকু ঘোষাল বলেন, ‘অনেকেই ওই রোগীর গায়ে হাত দিতে ভয় পাচ্ছিলেন৷ কিন্তু এভাবে চলতে পারে না৷ আমার মনে হল ওই রোগীর হয়ত মৃগী রোগ আছে৷ রাস্তার উপরে পড়ে কাঁপছিল সে৷ তার দ্রুত চিকিৎসার দরকার ছিল, অবশেষে এলাকার দুই যুবকের সাহায্যে এই রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে৷’

অপর উদ্ধারকারী দয়িত লাহিড়ী বলেন, ‘অনেকেই করোনা আক্রান্ত ভেবে স্পর্শ করছিলেন না উনাকে৷ তবে শেষ পর্যন্ত সঠিক সময়ে উনাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পেরেছি আমরা৷ আমি ধন্যবাদ জানাই খুকু ঘোষালকে৷ উনি এনআরএস হাসপাতালে একটানা ডিউটি করে আসার পথে ক্লান্ত শরীরে আমাদের সহযোগিতা নিয়ে এই রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন৷ উনাকে কুর্নিশ জানাই৷’  ইছাপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি হাসপাতাল সূত্রের খবর, বর্তমানে রাজ কুমার চামার অনেকটাই সুস্থ আছেন৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।