সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বাড়িতে আলো-হাওয়াযুক্ত জায়গায় একটা চ‌ওড়া-মুখ টবে এই গাছটা বসিয়ে রাখুন। মাটিটা যেন ভালো হয় আর প্রতিদিন নিয়ম করে সামান্য জল দেবেন। ব‍্যাস, আপনার বাড়িতে সবসময়ের জন্য মজুত হয়ে গেল এক অসামান্য উপকারী অমূল্য ভেষজ।

কত কাজেই না লাগবে এই গাছ। ব্রাহ্মী বা ব্রাহ্মীশাক। বহুবর্ষজীবি লতানো গাছে প্রচুর উপকারী। সংস্কৃতে সরস্বতী, মেধ্যা, মন্ডূকী, শারদী ইত্যাদি নামের সঙ্গে এটির প্রথম নামটিই ব্রাহ্মী বলা হলেও আরেকটি উদ্ভিদ, থানকুনি বা থালকুড়, Centella asiatica (L) Urban গাছটিকেও বাহ্মী বলা হয়।

‘ব্রহ্ম’ কথাটির সাথে জ্ঞান মেধা ও ধী-শক্তি সম্পর্কযুক্ত। ব্রাহ্মীশাক ৮ – ১০ গ্ৰাম, সামান্য গাওয়া ঘিয়ে ভেজে ২-৩টি গোলমরিচ গুঁড়ো সহ দুপুরে ভাতের সাথে নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি ও মেধা বাড়ে। ভিন্নমতে স্মরণশক্তি ও বলবৃদ্ধিতে ব্রাহ্মীশাকের টাটকা রস ২-৩ চামচ, ১০০ মিঃলিঃ গোরুর দুধে ফুটিয়ে দিনে দুবার খেতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি ব্রাহ্মী অন্ত্রের কম্পন (পেরিস্টালসিস) বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠসাফ করতে সাহায্য করে। সেজন্য যেকোনো বয়সেই কোষ্ঠবদ্ধতায় এর রস মধুসহ অথবা ঈষদুষ্ণ গোরুর দুধে মিশিয়ে দিনে দুবার খেলে উপকার হয়।

ব্রাহ্মীশাকের কাঁচা রস ২ চামচ (১০ মিলিগ্ৰাম) সমপরিমাণ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকাল বিকালে খেলে দু-তিন দিনেই বুকের কফ তরল হয়ে উঠে যাবে। একেবারে বাচ্চাদের বুকে কফ বসে অনেক সময়‌ই চরম বিপত্তি হয়। এক্ষেত্রে শিশুর বয়সানুযায়ী আধ থেকে এক চামচ ব্রাহ্মীরস সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে আঙ্গুলর ডগা দিয়ে একটু একটু করে চুষিয়ে খাওয়াতে হবে। ওষুধটা সকালে তৈরি করে দুপুরের মধ্যেই খাওয়ানো শেষ করতে হবে, সূর্যাস্তের পর কোনভাবেই নয়। এটি খাওয়ানোর পরে বাচ্চার বমি ও শ্লেষ্মাজড়ানো পাতলা পায়খানা হতে পারে, এরজন্য ভয় পাবার কিছু নেই।

বসন্ত, হাম-মিনমিনে, হারপিস জষ্টারজাতীয় ইরাপটিভ ফিভার বা উদ্ভেদ-জ্বরে ব্রাহ্মীরস মধুসহ খাওয়ানো হয় প্রধানতঃ কফনিস্বারক ও কোষ্ঠপরিস্কারকরূপে।

শুক্রতারল্য ও ক্ষীণশুক্ররোগে দু-চামচ ব্রাহ্মীরস এক কাপ ৫০-৬০ মিঃলিঃ ঈষদুষ্ণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সকালে নিয়মিত খেলে মাসখানেকের মধ্যে উপকার পাওয়া যাবে। মৃগীরোগেও এটি ফলপ্রদ। মূত্রকৃচ্ছতা ও মূত্ররোধে দু-চামচ ব্রাহ্মীরস, চার-চামচ পাথরকুচি পাতার রস ও দ-তিনটি গোলমরিচ গুঁড়ো একত্রে মিশিয়ে সাকাল-বিকাল খালিপেটে খেলে পেচ্ছাপ সরল হয়ে যাবে।

শ্লেষ্মাজনিত স্বরভঙ্গে ঈষদুষ্ণ গোরুর দুধ এক কাপ, ব্রাহ্মীরস দু-চামচ ও মধু এক চামচ একত্রে মিশিয়ে সাকালে-বিকালে নিয়মিত দু-তিন দিন খেলেই গলা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।