তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বসন্তের পাতা ঝরা মরশুমে জঙ্গলের আগুন লাগানো এক নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় বন্যপ্রাণ সচেতনতায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পথে নামল বনদফতর। রাজ্য বনবিভাগের বন্যপ্রাণ শাখার পক্ষ থেকে একটি ভ্রাম্যমান প্রচার গাড়ি করে বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের বিভিন্ন গ্রামে প্রচার শুরু করেছে।

শুক্রবার ঐ ভ্রাম্যমান গাড়ি সিমলাপাল রেঞ্জের বড়িচ্যা বিট এলাকার ভুতশহর, শ্রীরামপুর, পূর্ণডিহি, পড়াশোল, বেঞ্চ্যা গ্রাম এলাকায় প্রচারাভিযান চালায়।

প্রসঙ্গত, বাঁকুড়ার একটা বড় অংশের সাধারণ মানুষের অন্যতম মাথা ব্যাথার কারণ, দলমা থেকে আসা হাতির দল। এই হাতির আক্রমণে চাষের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি চলতি বছরেই পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বনদফতর থেকে সাধারণ মানুষ। আর সেকারণেই, জঙ্গলমহলে ওই ভ্রাম্যমান গাড়ি নিয়ে বন্যপ্রাণ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পথে নেমেছে বনদফতরের আধিকারিকরা। বনদফতর সূত্রে খবর, এই গাড়িটি মেদিনীপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বাঁকুড়া হয়ে পুরুলিয়া যাবে।

এদিন সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে অংশ নিয়ে বনদফতরের বড়িচ্যা বিট অফিসার রঘুনাথ মিশ্র জঙ্গলে আগুন না লাগানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, বনাঞ্চল রক্ষা করা রাজ্য সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই কাজে সম্মিলীত সাধারণ মানুষের সহযোগীতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলাকায় হাতি এলে কোনও ভাবেই তাদের উত্যক্ত না করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বনকর্মী সন্তোষ কুমার মণ্ডল বলেন, বনরক্ষায় বনদফতরের কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার প্রতিটি মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন। সেকারণেই, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বনদফতরের বণ্যপ্রাণ বিভাগ পথে নেমেছে বলে তিনি জানান।

বনদফতরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রামবাসীরাও। গ্রামবাসী সুদীপ্ত ষন্নিগ্রহী বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। এবিষয়টি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বনদফতরের সঙ্গে গ্রামের বনসুরক্ষা কমিটি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে বলে তিনি জানান।