তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লোকসভা ভোটে ব্যাপক ভরাডুবির পর বাঁকুড়া জেলায় দল ‘অনেকটাই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে’। শনিবার জেলা তৃণমূল ভবনে তিন পৌরপ্রধান, দলীয় বিধায়ক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বাঁকুড়া জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন তিনি আরও বলেন, ”এদিনের বেঠকে আমরা কম কথা বলেছি। জেলার ২২ টি ব্লক ও ৩ টি পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছ থেকে বেশী শুনেছি। ২০১৯ এর ১ জুন থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাংগঠনিক রিপোর্ট যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সমান্তরালভাবে এনআরসি বিরোধী আন্দোলন, দিদিকে বলো কর্মসূচী চলবে।”

রাজ্যের ৯৪ টি পৌরসভার সঙ্গে বাঁকুড়ার তিনটি পৌরসভার ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রার্থী পদ সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সেবিষয়েও এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পঞ্চায়েতের পদাধিকারীদের মধ্যে ‘সমন্বয়ের অভাব রয়েছে’ স্বীকার করে তিনি বলেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী ত্রিস্তর পঞ্চায়েত স্তরে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। একই সঙ্গে লোকসভা ভোটে এই জেলায় বিপুল ভরাডুবির পর তিনটি পৌরসভা নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া তৃণমূল নেতৃত্ব, শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেই তা পরিস্কার।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগেই বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পৌরসভার তিন পৌরপ্রধান নিজের নিজের এলাকায় নাগরিক সভা করবেন। যেখানে গত পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদান্যতায় কি কি উন্নয়ন হয়েছে তার খতিয়ান তাঁরা তুলে ধরবেন। ফলে মানুষ বুঝতে পারবেন, আগের বিরোধীদের পরিচালিত পৌরবোর্ড ও বর্তমানে তৃণমূলের পৌরবোর্ডের কাজের মধ্যে ফারাক কতটা বলেও তিনি জানান।
এদিনের সাংগঠনিক সভায় দলেল বাঁকুড়া জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল, অরুপ চক্রবর্তী, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, গুরুপদ মেটে প্রমুখ।