তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ফের শক্তি বৃদ্ধি শাসকদলের। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে রক্তক্ষরণ অব্যাহত বিজেপির। তৃণমূল সূত্রে দাবি, বুধবার খাতড়ায় বিজেপি ছেঁড়ে তাদের দলে যোগ দিলেন ৫০০ র বেশী কর্মী। এদিন, ঐসব কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দলের বাঁকুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক ও খাতড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র।

২০১৯ সালে এই জেলার দু’টি লোকসভা আসন হাতছাড়া হয় শাসকদলের। তারপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দলের পুরনো কর্মীদের কাছে টানতে উদ্যোগী হন তারা। চলতি মাসে এই নিয়ে তিনবার দলবদলের সাক্ষি থাকল জঙ্গলমহল।

বিজেপি ছেড়ে এদিন তৃণমূলে যোগ দেওয়া কর্মীদের দাবি, বিজেপি একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেকারণেই তারা দল ছাড়ছেন। পঞ্চায়েত সদস্য অসীম কুমার সিং বলেন, নির্দল হিসেবে পঞ্চায়েতে জিতে বিজেপিতে যোগ দিই। কিন্তু কাজ করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হচ্ছিল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে মানুষও আমাদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছিল। সেকারণে বাধ্য হয়েই ফের পুরনো দলে যোগ দেওয়া বলে তিনি জানান। আর এক বিজেপি ত্যাগি কুশ দাস বলেন, বাঁকুড়ার সাংসদ ‘আমাদের সঙ্গে প্রতারণা’ করেছেন। কোনও কথা তিনি রাখেননি। এখন তাকে ফোনেও পাওয়া যায়না। বিজেপিতে থেকে মানুষের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ফের তৃণমূলে যোগ দেওয়া বলে তিনি জানান।

তৃণমূল নেতা জয়ন্ত মিত্র বলেন, এদিন সিপিএম-বিজেপি সমর্থিত আইনজীবি সহ প্রায় এক হাজার কর্মী তাদের দলে যোগ দিলেন। বিজেপির প্রতি জঙ্গলমহলের মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে সামিল হতে তৃণমূলে ফিরে আসছেন বলে তিনি জানান।

তৃণমূলের তরফে এলাকায় ‘বিভ্রান্তি’ ছড়ানো হচ্ছে, অভিযোগ বিজেপির। দলের নেতা বেনু সরকারের দাবি, সাংসদ হিসেবে সুভাষ সরকারের এখনও একবছর পূর্ণ হয়নি। তিনি যা কথা দিয়েছেন কথা রাখবেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গল মহলের তিনটি বিধানসভায় তাদের দল জিতবে বলে তিনি জানান।