নয়াদিল্লি: সেই একই কক্ষ৷ কিন্তু বদলে গিয়েছে বসার জায়গা৷ বদল হয়েছে ভূমিকারও৷ তাই নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কিছু নিয়মের পরিবর্তনও করতে চাইলেন বেঙ্কাইয়া নায়ডু৷ স্বাধীন দেশে ‘বিনীত অনুরোধ’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয় বলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথমদিন মত প্রকাশ করলেন তিনি৷

শুক্রবার থেকে শুরু হল সংসদের শীতকালীন অধিবেশন৷ এর আগে বাদল অধিবেশনে বেঙ্কাইয়া নায়ডু ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ৷ কিন্তু মাঝের এই সময়টায় বদল ঘটেছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে৷ রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বেঙ্কাইয়া নায়ডু নির্বাচিত হয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি পদে৷পদাধিকার বলে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানও৷

আরও পড়ুন: ‘তিন তালাক’ প্রথাকে ‘অপরাধ’ বলে গণ্য করল মোদীর মন্ত্রিসভা

এদিন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবার রাজ্যসভায় এলেন বেঙ্কাইয়া নায়ডু৷আর প্রথম দিনই তিনি এই বিষয়ে মত প্রকাশ করলেন৷ সাধারণত, কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় সাংসদরা ‘আমার বিনীত অনুরোধ’ শব্দ দিয়ে কথা বলা শুরু করেন৷ কিন্তু একথা বলার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই মনে করছেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু৷ এভাবে কথা বলাকে তিনি ঔপনিবেশিক ধারা বলেই তিনি মনে করছেন৷ তাই এই ধরনের ঔপনিবেশিক শব্দ ব্যবহার না করার জন্য তিনি মন্ত্রী ও সাংসদদের অনুরোধ করেছেন৷ তবে এটা কোনও নির্দেশ নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন৷ বলেছেন, এটা তিনি অনুরোধ করছেন৷ তবে এ বিষয়ে উপরাষ্ট্রপতির মত, ভারত একটি স্বাধীন দেশ৷ তাই স্বাধীন দেশে এমন শব্দ ব্যবহার করা অনুচিত৷

আরও পড়ুন: আদৌ অবসর নিলেন তো সোনিয়া গান্ধী!

শুধু এখানেই থামেননি তিনি৷ বরং বদল এনেছেন শোকপ্রস্তাব পাঠেও৷ এদিন তিনি দাঁড়িয়ে উঠে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন৷ যদিও এর আগের দু’জন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি ও ভৈরোঁ সিং শেখাওয়াত রাজ্যসভায় বসেই শোকপ্রস্তাব পাঠ করতেন৷ এবার থেকে সেই ধারার বদল হল৷ আগামী ছ’বছর এই ধারা যে বজায় থাকবে, তা বলাই যায়৷ প্রসঙ্গত, লোকসভার অধ্যক্ষা সুমিত্রা মহাজনও প্রতি অধিবেশনের প্রথম দিন দাঁড়িয়ে উঠেই শোকপ্রস্তাব পাশ করেন৷