দুই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে শত্রুতাই তৈরি হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। সম্প্রীতি খুব বেশি চোখে পড়েনি। আর দুই দেশের সেনাবাহিনী? সে তো একে অপরের চক্ষুশূল। কিন্তু ব্যতিক্রম তো থাকেই। এমনকি চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় মানবিকতার। এমনই এক ব্যতিক্রমী কাজ করেছিলেন পাক বায়ুসেনা জওয়ান কাইজার তুফেল।

গত কয়েকদিন ধরে ভারত-পাক উত্তেজনার পারদ চড়েছে নতুন করে। বুধবার পাকিস্তানে আটক হয়েছেন ভারতের পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন। তাই এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে কার্গিল যুদ্ধের সময়কার ওই ঘটনার কথা।

কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পাকিস্তান এয়ারফোর্সের ডিরেক্টর অফ অপারেশন।

কার্গিল যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফিরে এসেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনা জওয়ান গ্রুপ ক্যাপ্টেন কে নচিকেতা। আর তাঁর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছিলেন এই কাইজার। যুদ্ধের সময় পাক সেনার হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, যে জওয়ানেরা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তারা তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু একজন অফিসার আসেন। তিনি পুরো পরিস্থিতি দেখেন, সব কথা শোনেন। অন্যান্য জওয়ানেরা তখন রাগে ফুঁসছে। সবাইকে থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ওই অফিসার। যুদ্ধের সময় পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভেঙে পড়ে MiG 27 বিমান, যার পাইলট ছিলেন এই নচিকেতা।

ঘটনার অনেক বছর বাদে নচিকেতা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন এই অফিসারের কথা। তিনি জানান, কাইজার তুফেল নামে ওই অফিসার তাঁকে একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে পছন্দ-অপছন্দ নিবে আলোচনাও করেন। এমনকি তুফেলের বাবার হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, বোনের বিয়ে এসব নিয়ে ঘরোয়া আড্ডাও দেন ওই অফিসার। নচিকেতার জন্য আসে ভেজিটবিল স্ন্যাকস। যুদ্ধের বছর দশেক বাদে এক সাক্ষাৎকারে তুফেল বলেছিলেন, ‘দু’জন ভদ্র অফিসারের মধ্যে যা কথা হতে পারে, তাই হয়েছিল। আমরা একসঙ্গে চা, স্ন্যাকস খেয়েছিলাম।’ তুফেলের কথা শুনে নচিকেতা বুঝেছিলেন তাঁদের মধ্যে তেমন কোনও তফাৎ নেই। মিশনের আগে বোনের বিয়ের জন্য ছুটি নিয়েছিলেন তুফেল, ঠিক যেমনটা করে থাকেন একজন ভারতীয় দাদাও। আটদিন যুদ্ধবন্দি হিসেবে থাকার পর ভার সরকারের চেষ্টায় দেশে ফেরেন নচিকেতা। কিন্তু যদি ও পাক অফিসার তাঁকে প্রাণে না বাঁচাতেন, তাহলে হয়ত এটা সম্ভব হত না।