মুজাফ্ফরাবাদ (পাক অধিকৃত কাশ্মীর): স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতকে কী বার্তা দেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেই দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

বিশেষ করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা অর্থাৎ স্বায়ত্তশাসনের নিয়মটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক চরমে।

ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সীমান্তে বন্ধ বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহণ। এই অবস্থায় অধিকৃত কাশ্মীর পরিদর্শন করছেন ইমরান খান।

ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তায় পালিত হচ্ছে পাক স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট ব্রিটিশ ভারত দ্বিখণ্ডিত হয়। তৈরি হয় পাকিস্তান। তার পর থেকে কাশ্মীর উপত্যকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছেই।

দুটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কাশ্মীর ছিল রাজন্য শাসিত এলাকা। পরে পাকিস্তানের দিক থেকে হামলা শুরু হয়। তখন কাশ্মীর রাজ হরি সিং ভারতে অন্তর্ভুক্তি মেনে নেন। ভারতীয় সেনা প্রতি আক্রমণ করে পাকিস্তানি হামলাকারীদের উপর। পরে রাষ্ট্রসংঘের মধ্যস্থতায় নিয়ন্ত্রণ রেখা তৈরি হয়। তারই এক দিকে পড়ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। এই এলাকা স্বশাসিত। এখানকার রাজধানী হল মুজাফ্ফরাবাদ।

অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি সৌ- ডন

পাক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সফরে গিয়েছেন। ভারতকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন।

জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার পর সেটি এখন ভারতের কেন্দ্রশাসিত এলাকা। এর বিরোধিতায় সরব পাকিস্তান। ইমরান খানের সরকার এর পরেই তীব্র কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

৩৭০ ধারা জম্মু-কাশ্মীর থেকে তুলে নেওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু ভারত যুদ্ধ করতে চাইলে তাদের কাছে যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা থাকবে না৷’

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে এই বার্তা দিয়েছেন পাক প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সমগ্র দেশ দেখছে পাকিস্তান কাশ্মীরবাসীর সঙ্গে রয়েছে এবং সবসময় তাদের সঙ্গে থাকতে প্রস্তুত৷ তিনি এও বলেন, কাশ্মীরবাসীকে সাহায্য থেকে তারা পিছু হটবেন না৷’ এবং এই বিষয় নিয়ে পাকিস্তান UNSC-তে যাবেন বলেও জানান আলভি৷ তাঁর মতে, ‘নিয়ম নীতি ভেঙে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে ভারত৷’

এদিকে, আমেরিকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান আশংকা করছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাঁর দেশ আফগান সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে আসবেন কাশ্মীর সীমান্তে মোতায়েন করবে। আর তেমন হলে তালিবান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে । যেখানে দু পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।