ফাইল ছবি

চেন্নাই: বাইরে তখন প্রখর রোদ। প্রচণ্ড রোদে গলদ ঘর্ম সাধারণ মানুষ। অসহনীয় দাবদাহে যখন নাজেহাল অবস্থা সকলের, তখন অসীম ধৈর্য নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ১৫০ভারসাম্যহীন।

বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর ৩৮ টি আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলেছে। কিন্তু গোটা ভারতে মানসিক ভারসাম্যহীনদের ভোট দেওয়ার নজির এই প্রথম। কিল্পাউকের ইনস্টিটিউট অফ মেনটাল হসপিটাল (আইএমএইচ) ভোট দেওয়ার এই বিশেষ ব্যবস্থা করে। সেন্ট্রাল চেন্নাইয়ের আওতায় পরে কিল্পাউক লোকসভা কেন্দ্রটি। এই কেন্দ্রেই ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন ১৫০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। যে তালিকায় ছিলেন ৫৬ জন মহিলাও।

এই কেন্দ্রে প্রধানত লড়াই হবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ডিএমকে নেতা দয়ানিধি মরণ এবং বর্তমানে এআইএডিএমকে-বিজেপি এবং পিএমকে জোটের সাম পাল (পিএমকে) এবং কামাল হোসেনের দল এমএনএম কামিলা নাসেরর মধ্যে।

ভোট দেবার পর সাত বছর ধরে সিজফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এক ৩৭ বছরের যুবক স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন তিনি ইভিএমের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তখন তাঁর ২০০১-এর ভোটের কথা মনে পরে যাচ্ছিল। যেবার শেষ তিনি ভোট দিয়েছিলেন। বলেন, ” আমার খুব ভাল লাগছিল, ভোট দিতে পেরে আমরা খুব খুশি। “

স্থানীয় কলেজ পড়ুয়াদের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য হাসপাতালে মক পোল ও সতর্কতামূলক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত করে দেবার জন্য। এই কর্মসূচির দায়িত্বে ছিলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর পি পূর্ণ চন্দ্রিকা।

পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “দেশে এই ধরণের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রথম এবং প্রথম কোন মানসিক হাসপাতালের বাইরে আলাদা করে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। “

তিনি আরও জানান, ব্যাঙ্গালোরের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ মেনটাল হেলথ অ্যানড নিউরো সায়েন্স এবং কলকাতা মেনটাল হসপিটালেরও এই ধরণের ভোটার তালিকা আছে। কিন্তু তাঁরা এই ধরনের কোন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা নেই। তিনি এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই ধরণের ভোটার তালিকাভুক্ত করেছেন। রোগীদের তাদের সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা অনুযায়ী নির্বাচিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

“রোগীদের স্ক্রিনে দেখিয়ে বোঝানোর মাধ্যমে বিবেচনা করার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। তার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া, তাদের চিন্তাভাবনা, ভাষা এবং তাদের কাছে কতটা প্রাসঙ্গিক কথোপকথন থাকতে পারে সেই বিষয়গুলিও” বলেছেন পূর্ণ চন্দ্রিকা। ১৫৬ জনের সবাই ” ফিট টু ভোট ” তালিকার আওতায়। তাঁদের কেস সীটে লেখা রয়েছে, হয় তারা সুস্থ নয়তো তাঁদের চিকিৎসা চলছে। জানান, হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

এই ভোট দেওয়ার পর ২০২১-এও ভোট দেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজন জানান, তাঁর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং -এ ডিপ্লোমা রয়েছে। সরকারি চাকরির সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। চার মাস আগে হাসপাতালে ভরতি এক ব্যক্তি জানান, বেশিরভাগ সময় আমরা আমাদের ওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ থাকি। আমি বেরিয়ে আসতে চাই এবং দরকারী কিছু করতে চাই। সরকারকেও আমাদের জন্য সুযোগ দিতে হবে। ” বলেন তিনি।