ইসলামাবাদ: গত কয়েকদিন ধরে একদিকে যেমন দেশের অন্দরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তেমনই সীমান্তেও বাড়ছে অশান্তি। গত কয়েকদিনে একাধিকবার সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ভারতীয় সেনা তার কড়া জবাবও দিয়েছে। শনিবারই দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় বাহিনীর হাতে। আর তারপরই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এদিন একটি ট্যুইট করে ফের ভারতের আভ্যন্তরীণ সমস্যার বিষয়ে কথা বলেন ইমরান খান। তাঁর দাবি, ভারতের অন্দরে চলা বিক্ষোভ থেকে নজর ঘোরাতে কোনও অপারেশন চালাতে পারে ভারতীয় সেনা। এর জন্য নাকি আগে থেকে সতর্ক করছেন তিনি। তাঁর দাবি, যুদ্ধের জিগির তুলে হিন্দু জাতীয়বাদ জাগিয়ে তুলতে চাইতে পারে ভারত। আর সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের যোগ্য জবাব দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।

কাশ্মীরে রক্তপাতের অভিযোগ আগেও তুলেছেন ইমরান খান। আরও একবার সেই একই কথা বলেছেন তিনি। আরও লিখেছেন, ‘গত পাঁচ বছরে মোদী সরকার ক্রমশ হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির পথে এগিয়েছে।’

শনিবার কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে আক্রমণের চেষ্টা চালায় পাক সেনা। আর তার জবাব দেয় ভারত। তখনই দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে।

কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতে সংখ্যালঘুদের ‘সঙ্কট’ নিয়ে তোপ দাগেন। শুধু তাই নয় তিনি হুমকি দেন, এই নাগরিকত্ব আইনের জেরে শুধুমাত্র উদ্বাস্তু সমস্যা হবে না, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলিকে ঠেলে দেবে যুদ্ধের দিকে ৷ যদিও এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থার কথা চিন্তা করতে বলেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।

জেনেভায় বিশ্ব শরণার্থী সম্মেলনের মঞ্চে ইমরান কাশ্মীর সমস্যা ও নাগরিকত্ব আইনের প্রসঙ্গ তোলেন। দাবি করেন, ভারতে কয়েক লক্ষ মুসলমান এখন বিপন্ন। পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য,ভারতে রিফিউজি সমস্যার তুলনায় অন্য সমস্যাগুলি নিতান্তই নগন্য। ফলে তিনি এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর আংশকা, যে কোনও দিন ভারত ছাড়তে হতে পারে লক্ষ লক্ষ মুসলিম শরণার্থীকে। পাশাপাশি শুনিয়ে রেখেছেন, এই ভারতীয় সংখ্যালঘুদের জায়গা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই পাকিস্তানের ৷

ইমরানের বিবৃতির জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফের পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন। পাশাপাশি পাক নেতার মিথ্যাচারিতার অভিযোগও এনেছে। সেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭২ বছর ধরে পাকিস্তান কেমন করে সংখ্যালঘুদের তাড়িয়েছে আর তাদের একটা বড় অংশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষত ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (অধুনা বাংলাদেশে) পাক সেনার অত্যাচারের কথা তুলে আনা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।