মুজফফরাবাদ: কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য যত দূর যেতে হয় যাবে পাকিস্তান। এই বার্তা তারা বারবার বিভিন্নভাবে দিয়েছে। এবার অধিকৃত কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে কাশ্মীরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার কথা বললেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেন, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে নাকি তিনি সব আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মীরের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন।

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে বুধবার অধিকৃত কাশ্মীরে অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, কাশ্মীরের সমস্যা জানাতে সব আন্তর্জাতিক ফোরামে যাবেন তিনি। আর ভারত কোনও পদক্ষেপ নিলে পাকিস্তান তার কড়া জবাব দেবে বলে মোদীর নাম করে হুঁশিয়ারি দেন ইমরান খান।

পাশাপাশি এদিন তিনি ভারতয় বায়ুসেনার বালাকোট স্ট্রাইকের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ভারত নাকি এবার পাকিস্তানের জন্য বালাকোটের থেকেও বড় অভিযানের পরিকল্পনা করছে।

পাকিস্তানের এবারের স্বাধীনতা দিবসে উৎসর্গ করা হয়েছিল কাশ্মীরিদের জন্য। প্রধানমন্ত্রী সহ পাকিস্তানের নেতারা জায়গায় জায়গায় গিয়ে গলা ফাটিয়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে। এমনকি যুদ্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ইমরান খান। ভারতকে আক্রমণ করার সঠিক জায়গা হিসেবে অধিকৃত কাশ্মীরকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ছুটে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে।

মুজফফরাবাদের অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারির থেকে ভয়ঙ্কর অ্যাকশনের জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত।’ তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে যা চলছে, তার থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতে ভারত কোনও মারাত্মক প্ল্যান করছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের পরিকল্পনা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত।’ ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালাবে বলেই অনুমান তাঁর।

এখানেই শেষ নয়। ইমরান খান এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন তিনি। কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার জেরেই শেষমেশ এই পথেই নাকি হাঁটতে চলেছে পাক সরকার। সম্প্রতি এই ইস্যুতে এক বিস্ফোরক মন্তব্যও করেছেন তিনি।

জানিয়েছেন, কাশ্মীরের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য দেশের জনগণ প্রস্তুত। এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের আদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। দেশের ইসলাম সম্প্রদায়ের মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও উস্কানি দিয়েছেন। কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে কটাক্ষ করেছেন বিশেষভাবে। কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেছেন, এটা উপত্যকার পক্ষেও কঠিন পরিস্থিতি।