লাহোর:  করতারপুরে গুরু নানক দেবের ৫৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাকিস্তান সরকার তীর্থযাত্রীদের ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তে খুশি ভারত সহ অন্যান্য দেশের শিখ ধর্মাবলম্বীরা। ইমরান খান সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে পাকিস্তানের শিখ সম্প্রদায়।

চলতি বছর প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রীকে ‘ডাবল এন্ট্রি ভিসা’ দিতে চলেছে ইসলামাবাদ। শুধু তাই নয়, শিখ ধর্মাবলম্বীদের মানুষদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় করতারপুর করিডরের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর তা করেছে ইমরান খানের সরকার। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের করতারপুরের দরবার সাহিবের সঙ্গে ভারতের গুরুদাসপুর জেলার ডেরা বাবা নানকের গুরুদ্বারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করবে এই করিডর। যা দুদেশের মধ্যে অন্তত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত।

আগামী ৬ নভেম্বর গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে। আর এই উৎসবে সামিল হতে বিভিন্ন দেশের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ করতারপুরে হাজির হবেন। যার মধ্যে অন্যতম ভারতও। কারণ ভারত থেকে বহু শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ এতে সামিল হবেন। বলা প্রয়োজন, ক্ষমতায় আসার আগে নয়া পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ইমরান খান। সেই মতো ক্ষমতায় এসেই নতুন করে পাকিস্তানকে সাজাচ্ছেন প্রাক্তন বিশ্বকাপজয়ী। আর সেজন্যে পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পাক সরকার। এজন্য অনলাইন ভিসা, ভিসা অন অ্যারাইভাল সহ একগুচ্ছ পরিষেবা চালু করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাঁদের মতে, পাক সরকার এই পরিষেবা চালু করায় প্রতিবছর হাজার হাজার শিখ ধর্মাবলম্বী করতারপুরে আসবেন। ফলে এখানকার পর্যটন ব্যবসাও লাভের মুখ দেখতে পাবে।

শিখ ধর্মের প্রবর্তক পাঁচ শতাব্দী আগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রবর্তীত শিখ ধর্ম পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তারিত হয়। পরবর্তীকালে শিখ সাম্রাজ্য পঞ্জাবকে ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছিল। এবং এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল লাহোর। ব্রিটিশদের চূড়ান্ত যুদ্ধের পর পরাজিত শিখরা বশ্যতা মেনে নেন। বিখ্যাত কোহিনুর হিরে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শিখ ধর্মের গুরু নানকের জন্মস্থান ও শিখ সাম্রাজ্যের এখন পাকিস্তানেই পড়ে।

করতারপুর হল শিখ ধর্মালম্বীদের অতি পবিত্র তীর্থস্থানের একটি। পাকিস্তানের সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায় এবং ভারতে ছড়িয়ে থাকা শিখ ধর্মালম্বীরা দীর্ঘ সময় ধরে নানকানা সাহিব এবং অন্যান্য শিখ তীর্থস্থান পরিদর্শন করতেন। কিন্তু ভারতীয়দের জন্যে করতারপুর ছিল নিষিদ্ধ। সীমান্ত লাগোয়া হওয়াতে এইখানে যাওয়ার অনুমতি দিত না পাকিস্তান সরকার। ইমরান খান ক্ষমতায় এসে বিখ্যাত এই ধর্মীয়স্থানটিতে ভারতীয়দের প্রবেশের জন্যে ভিসা ছাড়পত্র দিয়েছেন।