নয়াদিল্লি: মোদীকে ফোন করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে।

ট্যুইট করে আগেই নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তিনি। এবার সরাসরি ফোন করে কথা বললেন ইমরান খান। বিপুল ভোটে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানালেন তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি এদিন সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ গড়ার জন্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন ইমরানকে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরেই মোদীর জয় স্পষ্ট হয়ে যায়। ফের বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার বার্তা চলে যায় গোটা বিশ্বের কাছে। রাশিয়া, চিন, ইজরায়েলের মত বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীরা শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন। ট্যুইটারে অভিনন্দন জানান ইমরানও।

চলতি বছরেই পুলওয়ামা হামলার পাল্টা জবাব দিতে পাকিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক করার সিদ্ধান্ত নেন মোদী। তাঁর আমলেই পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। তাই মোদী জমানায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে যে খুব একটা মধুর ছিল না , তা স্পষ্ট।

এয়ার স্ট্রাইক চালানোর পরও ইমরান খানই বলেছিলেন, যে ভোটে জিততে যুদ্ধের জিগির তুলতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী। তাই মোদীর জয়ের পর তাঁর এই অভিনন্দনের ঘটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে ভোটের আগে উল্টো সুরও শোনা গিয়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরানের মুখে। যিনি নাকি নয়া পাকিস্তান গড়ার বার্তা দিয়েছেন বারবার, তিনি আচমকা শত্রুতা ভুলে বলেছিলেন, কাশ্মীর সমস্যা সমাধান করার জন্য হয়তো নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি নির্বাচনে জিতলেই ভালো হবে। তাঁর দাবি ছিল, মোদী ভারতের দক্ষিণপন্থী হিন্দুদের সমর্থন পাবেন। রয়টার্সকে দেওয়া আরেক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, অন্য কোনও পার্টি জিতলে তারা হয়তো পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে হিন্দু ‘ব্যাকল্যাশের’ ভয়ে থাকবে।

এসব শুনে, বিরোধীরা বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাইরে শত্রুতা থাকলেও আদতে যোগ রয়েছে মোদী-ইমরানে। বিজেপি নেতারা আবার বলেছিলেন, আসলে মোদীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এটা নাকি কংগ্রেসেরই একটা চাল।

মোদীর জয়ের দিন ট্যুইটারে ইমরান লেখেন, ‘মোদী ও তাঁর সঙ্গীদের জয়ে আমি আভিনন্দন জানাই। আগামিদিনে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপনে একসঙ্গে উন্নয়নের কাজ করতে পারব আগামিদিনে।’ এদিন ফোনেও তিনি একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর।