ইসলামাবাদ: প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা৷ মুখে যতই বড় বড় কথা বলুক, আসলে প্রত্যক্ষভাবে যে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে লালন করে, তার প্রমাণ দিল নিজেরাই৷ লাহোরে বিশাল বড় হোর্ডিংয়ে একসাথে দেখা গেল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও জামাত উদ দাওয়া প্রধান ও মুম্বই সন্ত্রাসের মাস্টারমাইণ্ড হাফিজ সইদকে৷

লাহোরের দেওয়ালে ঝুলছে বিশাল বড় একটি হোর্ডিং৷ তাতে জ্বলজ্বল করছে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছবি৷ এরই সাথে নজর কাড়ছে হাফিজ সইদের ছবিও৷ একদিকে যখন বারবার কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে সরব হচ্ছে পাকিস্তান, তখনই হাফিজ সইদের মতো কুখ্যাত জঙ্গির সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রীর এই ছবি পাকিস্তানের স্বরূপকেই তুলে ধরছে৷

আরও পড়ুন : ধৃত কুখ্যাত জামাত জঙ্গি ইজাজকে নিজেদের হেফাজতে নিল এসটিএফ

ইমরান খান বারবার বলে আসছিলেন যে পাকিস্তান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে৷ অথচ মুম্বই হামলার এই মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান। ভারত জম্মু–কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরই পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের সংসদে ইমরান খান হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কাশ্মীরের যা পরিস্থিতি ফের পুলওয়ামার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামা ঘটনার পেছনে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের হাত ছিল বলে ভারত দাবিও করেছিল৷

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই পাক অধিকৃত পঞ্জাবের গুজকানওয়ালা থেকে লাহোর যাওয়ার পথে গ্রেফতার করা হয় আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে পরিচিত হাফিজকে৷ তারপর জেল হেফাজতে পাঠানো হয় তাকে৷ তবে প্রথম দিকে হাফিজ সইদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান৷ তবে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি কূটনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করে পাকিস্তান৷ পরে ফের মুক্তি দেওয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন : বাবাকে খুনের ছক কষছেন ইমরান, দাবি করলেন বিলাওয়াল

হাফিজ সইদ ও তার ১২ জন সহকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে পঞ্জাব প্রদেশের সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি)। হাফিজ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপ, সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে অর্থ জোগানো ও আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ আনে পাকিস্তান। তবে সেটা যে শুধুই লোক দেখানো ছিল, তা বলাই বাহুল্য৷

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লেখা এক চিঠিতে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মোদী লেখেন পাকিস্তানের সঙ্গে তখনই সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব, যখন কড়া হাতে সন্ত্রাস দমনের পথে হাঁটবে ইসলামাবাদ৷

প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিঠিতে বলা হয়, দুদেশের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতার ওপরে৷ যা পাকিস্তানের তরফ থেকে কোনওদিনই পায়নি ভারত৷ ফলে দুদেশের সম্পর্ক কখনই স্বাভাবিক হয়নি৷ এখন ভারত পাকিস্তানের মূল আলোচ্য বিষয় সন্ত্রাস, যা পাকিস্তানের কাছে গুরুত্বহীন৷ এই অবস্থান ভারত মেনে নেয়নি, নেবেও না৷ ফলে এখনই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দেন মোদী৷