দেবময় ঘোষ: জেনিভা কনভেনশনের ১৩ নম্বর ধারা অগ্রাহ্য করেছে পাকিস্তান৷ সেক্ষেত্রে বন্দি ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে তড়িঘড়ি ভারতের হাতে প্রত্যার্পণ করে ‘শান্তির বার্তা’দেওয়ার নাটক করা ছাড়া আর কোনও পথ ছিল না ইমরান খানের৷ জেনিভা কনভেনশনের ১৩ নম্বর ধারায় স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যুদ্ধবন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কোনো নির্যাতনের ফলে ওই বন্দির মৃত্যু হলে তা হবে কনভেনশনের চুক্তি লঙ্ঘনের সামিল৷

১৩ নম্বর ধারার যে অংশটি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তা হল – ‘‘prisoners of war must at all times be protected, particularly against acts of violence or intimidation and against insults and public curiosity. (বন্দিকে হিংসাত্মক ঘটনা, মারধর, অপমান এবং জনগণের অত্যুসাহের হাত থেকে বাচাতে হবে৷)’’

  • কিন্তু কী ঘটেছে?

বুধবার দুপুরে পাক মিডিয়া অভিনন্দনের একচোখ বোজা রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মুখের ছবি এবং ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় পাক মিডিয়া এবং পাকিস্তানের গুরুত্বপূরণ সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা৷ এখানেই অর্ধেক যুদ্ধে হারেন ইমরান৷ বন্দি পাইলটকে জনতার রোষের মুখ থেকে প্রথমে বাঁচাতে পারেনি পাক সেনা৷ জনতা তাঁকে মারতে থাকে৷ বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল খেকে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়ছে৷ পাকিস্তানের আম জনতা থেকে সাংবাদিক – সকলেই অভিনন্দন বর্তমানের রক্তাক্ত ছবি পোস্ট করে যুদ্ধ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে৷ পাক সেনার মেজর অভিনন্দনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে থাকে৷ পিছমোড়া করে হাত বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে অভিনন্দন৷

এই ঘটনার পরই ঘরে-বাইরে চাপের কাছে মাথা নীচু করতে বাধ্য হল ইমরান খান৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পাক-সংসদের যৌথ অধিবেশনে ঘোষণা করেন, বন্দি যুদ্ধবিমান চালক অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার মুক্তি দেবে পাকিস্তান৷ ভারতের বিদেশমন্ত্রক পাক-হাইকমিশনারকে ডেকে এই ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করে৷ এই ঘটনার ঠিক ৩০ মিনিটের মধ্যেই পি-টিভি এবং পাক সরকার অভিনন্দনের চা-খাওয়ার ভিডিও ট্যুইট করে৷ পাক সেনার মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর টুইট করে জানান, পাকিস্তান সেনার হেপাজতে রয়েছে একজন ভারতীয় পাইলট৷ মিলিটারি রীতি অনুযায়ী তার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ পাক সেনার এই স্বীকারোক্তি জরুরি প্রয়োজনীয় ছিল৷

কারণ, ইতিমধ্যেই ইমরান বার্তা দিয়েছেন, দুই যুদ্ধ বিমান এবং দুই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ পাক সেনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল নেই৷ সেক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দীদের সঠিক তথ্য না দেওয়া এবং বন্দীর ছবি স্যোশাল মিডিয়ার ভাইরাল করার মাধ্যমে জেনিভা কনভেনশনের ভেঙেছে পাকিস্তান তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও পাকিস্তানকে সমালোচনা করতে থাকে৷ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদক অ্যালেক্স হরটন নিজের প্রতিবেদনে বলেছেন, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক ভিডিও ডিলিট করে দেয়৷ ওই ভিডিওকে দেখা গিয়েছে কীভাবে পাক সেনা বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটের কাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে চান৷ বন্দি পাইলট তার নাম, ব়্যাঙ্ক, সার্ভিস নম্বর জানায়৷ কিন্তু বাড়তি তথ্য দিতে অস্বীকার করে – এটাই সাধারণ মিলিটারি নিয়ম৷ ওই নিয়ম অনুসারে অভিনন্দন পাক সেনার অফিসারকে স্যার করে সম্মোধন করেছেন৷