প্রাচীন ভারতের হিন্দু শাস্ত্র মতে ভগবান বিষ্ণু যুগ যুগ ধরে এই বিশ্ব সংসারের রক্ষক ও পালক। নানা যুগে তিনি নানা রূপে আবির্ভুত হয়েছেন মর্তে। তার একটি অবতার হলো শ্রী রামচন্দ্র। এটি তার সপ্তম অবতার। ত্রেতা যুগে রাম অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার ঘরে আবির্ভুত হন তাদের প্রথম সন্তান রূপে। হিন্দু সমাজে ঘরে ঘরে এই রামনবমী দিনটি রামের জন্মতিথি হিসেবেই পালিত হয়ে থাকে।

ফাল্গুনের পর চৈত্র মাসের নবমী তিথিতে তার পুজো করা হয়। বলা হয় প্রতিটি যুগেই মানুষের সাথে হওয়া অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে জন্ম নেন ঈশ্বর। মর্তবাসীকে বাঁচাতে তিনি নানা রূপে আসেন ধরাধামে। বিষ্ণুর নানা অবতার এক একটি যুগে লড়াই করেছে এক একটি অন্যায়, অসত্যের বিরুদ্ধে। তাই তার সপ্তম অবতার রাম হলেন অশুভ শক্তিকে দমন করে সত্যের জয়ের প্রতীক স্বরূপ। অধর্মকে দূরে সরিয়ে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করতেই নাকি জন্ম হয়েছিল তার।

আরো পড়ুন- রামনবমী ২০২১: জেনে নিন তিথি, দিনক্ষণ

প্রতিটি হিন্দু বাড়ি বা মন্দিরে নানা উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই পূজিত হন হিন্দুদের অন্যতম দেবতা রাম। পুজোর পূর্বে সকালে শুদ্ধভাবে ও শুদ্ধ মনে সর্যদেবকে প্রণাম করে তার আশীর্বাদ নিয়ে দিনের শুরু করা হয় বিশেষভাবে। ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা সারাদিন ধরে করতে থাকনে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ। ভক্তিমূলক গান বা নৃত্য পরিবেশন করে বা রাম কাহিনী পাঠ করে পালিত হয় রামের জন্মতিথি।

এই বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই বিশেষ দিনটি পড়েছে ২১ শে এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার। ২১ শে এপ্রিল থেকে ২২ শে এপ্রিল অবধি চলবে সময় মেনে পুজো। মহামারীর দাপটে এবার উৎসব ও পুজো সম্পাদন করতে কিছুটা সমস্যা আসলেও উৎসব পালন থেকে বিমুখ হননি কেউ। এই বছর সুস্থভাবে থাকতে কোনো মেলা বা অনুষ্ঠানে না গিয়ে সেইসব সামাজিক জমায়েত এড়িয়ে বাড়িতেই করুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই পুজো। এতেই সন্তুষ্ট হবেন শ্রী রাম। হয়তো এই পুজোর মাধ্যমেই ধরাধাম থেকে আমরা প্রার্থনা করতে পারি মহামারীকে বিদায় জানানোর।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.