ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ যে শুধুমাত্র দৈহিক তা নয়, মানসিক দিক থেকেও দৃঢ় করে তোলা হয় জওয়ানদের। শুধুমাত্র গুলি চালানো কিংবা বিমান ওড়ানো নয়, জানতে হয় আরও অনেক কিছু। অনেক রীতিও এর অন্তর্ভুক্ত। সেনা জওয়ানদের উর্দির তিনটি বিশেষ মন্ত্র হল- ‘নাম’, ‘নমক’, নিশান’।

‘নাম’ অর্থাৎ দেশের নাম বা দেশের মর্যাদা। অথবা, নিজের রেজিমেন্টের নাম। ‘নমক’ অর্থাৎ যে দেশের নুন খাচ্ছ, সেখানকার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা। নিশান অর্থাৎ চিহ্ন বা পতাকা। বর্তমানে নিশান বলতে ভারতের জাতীয় পতাকাকে বোঝানো হয়। তবে আগে প্রত্যেক রেজিমেন্টের নিজস্ব পতাকা ছিল। সেটা নিয়েই তারা যুদ্ধে যেত। আর কোনও রেজিমেন্টের কাছে তাদের পতাকা শত্রুপক্ষের কাছে নত করা ছিল চরম অপমানজনক। যে কোনও, চরম আত্মত্যাগ করে নিজের রেজিমেন্টের মাথা উঁচু করে রাখাই ছিল সেনাবাহিনীর লক্ষ্য।

তাই এই তিন মন্ত্র হল সেনাবাহিনীর সম্মানজনক তিনটি কোড। যাতে সেনা জওয়ান কিংবা অফিসারেরা অনুপ্রাণিত হন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনও সেনা অফিসার কর্মজীবনের পুরোটাই একটি ব্যাটেলিয়নের অংশ হিসেবে কাজ করেন ও ওই ব্যাটেলিয়নের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত থাকেন। অনেক সময় যুদ্ধে আহত সেনা জওয়ানদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলেন, ‘পল্টন ইজ্জত কা সওয়াল হ্যায়’।

‘He Kept the Colors: The True Story of the General, the Old Man and the Flag’ নামের আমেরিকান সিভিল ওয়ারের উপর লেখা একটি বইতে লেখা হয়েছে, ‘পতাকা অবনত হলে কোনও রেজিমেন্ট সবথেকে বেশি অপমানিত হয়। যে পতাকাকে রক্ষা করে, তার লাজ সবথেকে কঠিন। যুদ্ধক্ষেত্রে পতাকাকে বাঁচাতে গিয়েই বহু জওয়ানের মৃত্যু হয়। টুয়েন্টি ফোরথ মিচিগানের পতাকা বাঁচাতে গিয়ে ২৩টি বুলেটে মোট ন’জনের মৃত্যু হয়।’

ভারতেও রয়েছে এমন উদাহরণ। ভারতীয় সেনার এক বিশেষ রেজিমেন্ট হল ‘দ্য পুনা হর্স’। ১৯৬৫ ও ১৯৭১-এর যুদ্ধে এই বাহিনীর জওয়ান পরববীর চক্র পায়। ১৮৫৭-এ তারা আফগানিস্তানে অ্যাংলো-পার্সিয়ান যুদ্ধে পার্সিয়ান রেজিমেন্ট জয় করে। পার্সিয়ান রেজিমেন্টের প্রতীক চিহ্নবাহী পতাকায় ছিল হাতের চিহ্ন, তাতে লেখা ছিল ‘Yad Ullal Fauk Idaheem’ অর্থাৎ ‘ভগবানের হাত সবার উপরে’। আজও পুনা হর্সের প্রতীকের মাঝে রয়েছে সেই হাতের চিহ্ন। ২৫০ বছর পরই সেই প্রতীক বহন করে চলেছে পুনা হর্স।