মন্দাক্রান্তা সেন: এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, এতকিছুর পরেও নরেন্দ্র মোদী আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তাঁর দল বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেল। কী করে পেল, মানুষ কী চাইছে সেটা আমাদের কাছে একটা প্রশ্নচিহ্নের বিষয়। প্রায় বিরোধী শূন্য যে লোকসভা তৈরি হচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার পক্ষে প্রয়োজনীয় যা যা জিনিস দরকার সেগুলো কতখানি পাবো তা আমার জানা নেই।

সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবেই বিজেপির পরিচিতি বেশি। সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নানা জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এতে সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে বলেই আমার মনে হয়। এর বিরুদ্ধে আমরা আগে যেমন লড়েছি, এখনও আমাদের লড়াই জারি থাকবে। কিন্তু লড়াইটা যে কঠিন হবে সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ভারতবর্ষের মতো দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিকাশ অভাবনীয়।

এরপর আরও কী কী দেখতে হবে আমি জানি না। নানা রকম উদ্ভট কাণ্ডকারখানা– রামনবমী, গণেশপুজো ইত্যাদি যদি চলতেই থাকে তাহলে আমাদের উন্নতি হবে না। মানুষের মন ভোলানোর জন্য এগুলোর মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে। সীমান্তে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। এগুলো আরও বাড়বে বলে আমার মনে হয়। সংসদে আমাদের হয়ে কথা বলার কেউ থাকল না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তো কেউ থাকলোই না। এটা একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি।

কিন্তু আমাদের একজোট হতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমরা হাতে হাত রেখে লড়ব। একথা আমরা আগেও বলেছি। তাও এই ফল হল। এই ফল কি সত্যিকারের ফল? নাকি এর মধ্যে কারচুপি রয়েছে তা আমরা জানি না। ভারতবর্ষ এখন আরও অন্ধকারের দিকে চলেছে। সেই অন্ধকার থেকে আমাদের দেশকে আলোয় নিয়ে আসা দরকার।

*সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন অরুণাভ রাহারায়