ওয়াশিংটন: বিশ্বের গতি শ্লথ হয়েছে, তার প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশে। আর ভারত সেই তালিকায় বেশ প্রকট। সেই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করলেন ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড বা আইএমএফের নতুন ম্যনেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিভা।

আইএমএফের হেডকোয়ার্টারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৯-এ বিশ্বের অর্থনীতির গতি শ্লথ হবে বিশ্বের ৯০ শতাংশ জুড়ে। আর এতে ভারত ও ব্রাজিলের মত দেশ সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবে।’ এমনকি চিনের আর্থিক গতিও ধাকআক খেতে চলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

জর্জিভা জানিয়েছেন, ”জিডিপি পরিমাপ করে দেখা যায় যে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ অর্থনীতি গতি বাড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি আবার সমানুপাতিক মন্দার মধ্যে দিয়ে চলেছে। ২০১৯ সালে, ভারত সহ বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মন্দার মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা করছি।”

আরও জানানো হয়েছে যে, আমেরিকা ও জার্মানিতে বেকারত্ব ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন থাকলেও আমেরিকা, জাপান এবং বিশেষত ইউরো অঞ্চল সহ উন্নত অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ক্রমশই নিম্নমুখী হচ্ছে। চলতি মাসে ক্রিস্টিন লেগার্ডের কাছ থেকে আইএমএফের দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন যে, সমস্ত দেশের মুদ্রাগুলি আবারও স্পটলাইটে রয়েছে এবং এখন একাধিক দেশের মধ্যে বিরোধ।

জর্জিয়া বলেন, “২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকলেও, দেশগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে সাধারণত শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের মাধ্যমে যে লড়াই চলছে তার জেরেই এই অর্থনৈতিক মন্দা”।
এর আগে দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তাঁর মতে, এই আর্থিক ধীর গতি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়৷ এজন্য তিনি জিডিপি-র হিসাব পদ্ধতিটি দিকেও নজর দিতে বলেন৷

রঘুরাম রাজনের মতে, বেসরকারি ক্ষেত্রে যেসব বিকাশের কথা বলা হচ্ছে সেগুলি সরকারি তৈরি হিসেবের চেয়ে অনেক কম৷ এজন্যেই তাঁর মনে হয়েছে আর্থিক দিক থেকে একটা ধীর গতি দেখা যাচ্ছে অর্থনীতিতে৷ আর সেটাই উদ্বেগের বিষয়৷ মনিটারি পলিসি কমিটি সম্প্রতি দেখা ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি ধরেছে আর্থিক বছর ২০১৯-২০ সালের জন্য ৬.৯ শতাংশ যা আগে ধরা হয়েছিল ৭ শতাংশ৷