স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : বিশ্বের বন্দিত হল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর। আমফানের একদম সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের দরাজ প্রশংসায় করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। এই সংস্থা আবার রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ এজেন্সি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা চিঠিতে বলেছে, অন্তত তিন দিন আগে যে জায়গার উল্লেখ করা হয়েছিল, সেখানেই আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়। উম্পুনের সৃষ্টি, গতিপথ, তীব্রতা, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার স্থান ও সময়, সবই মিলিয়ে দিয়েছেন আবহবিদরা। সমুদ্র কতটা উত্তাল হবে, বৃষ্টির পরিমাণ, ঝড়ের গতিবেগ ঠিক যেমন বলা হয়েছিল, তাও হুবহু মিলেছে। তাতে শুধু ওডিশা বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, বিপর্যয় মোকাবিলায় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশও। তার উল্লেখ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে যে ভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো গিয়েছে, তা সকলের কাছে শিক্ষনীয়। সংস্থার মহাসচিব ই মানায়েনকোভা মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্রকে পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, অনেক আগে থেকে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়াতেই আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় পিলিনের নিখুঁত পূর্বাভাসের পরও রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি পেয়েছিল মৌসম ভবন। এবার আমফান। পূর্বাভাসের জন্য বড় ভূমিকা ছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতরের। ডিডিজিএম সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমফানের পূর্বাভাসে আলিপুর আবহাওয়া দফতরকে অপরিহার্য বিভাগের তালিকায় রেখেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই হিসাবে আমাদের উপরে গুরু দায়িত্ব ছিল। সেই পূর্বাভাস আমরাও দিতে সক্ষম হয়েছি। যদিও অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রাণহানিও হয়েছে। তবে পূর্বাভাস না থাকলে আর ভয়ঙ্কর হতে পারত অবস্থা।’

আবহাওয়াবিদদের বহু সতর্কতা দেওয়ার ফলে গভীর সমুদ্রে কোনও মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়নি। বোরো ধান যেটুকু বেশ অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাভাস পেয়ে প্রশাসন তৎপর হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এটাকেই তাঁদের সফলতা এবং বিশ্বের দরবারে প্রশংসা প্রাপ্তির কারন হিসাবে দেখচঘে মৌসম ভবন। তবে আক্ষেপ একটাই, মানুষ ঠিকমতো কথা শুনলে কোনও প্রাণহানিও হত না।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV