সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘কেন্দ্র ভয় পাচ্ছে। তাই ক্ষমতার প্রয়োগ করছে। সেই ক্ষমতা খুব শীঘ্রই শেষ হবে।’ ফেসবুকে পোস্ট করে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধলেন যাদবপুরের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর। এর আগে রাজ্য সরজকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে শিক্ষাবিদ ইমনকল্যাণ লাহিড়ীকে। এবার সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তিনি সোশ্যাল মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন। রীতিমত বড় পোস্ট করে তিনি জেএনইউয়ের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

জাতির মুখ কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কেন্দ্রীয় সরকার আজ ছাত্রদের আন্দোলনে ভয় পেয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ। ইমনকল্যাণ লাহিড়ী লিখেছেন, ‘যে জাতি ছাত্রছাত্রীদের ভয় পায়, সেই জাতির উন্নতি হওয়া কঠিন। বহু বছর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা ভারতবর্ষের মুখ উজ্জ্বল করেছে। নতুন ভারত গঠনের ক্ষেত্রে তাদের অবদান অসামান্য। বিদেশে নানা ক্ষেত্রে ভারতবর্ষকে তুলে ধরছে জওহরলাল নেহেরু বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা। এই বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ ভারতবর্ষ গঠনের পীঠস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আক্রমণ ভারতবর্ষের অগ্রগতির ওপর আক্রমণ। যারা ক্ষমতাবান, তাদের জানা উচিত ক্ষমতার শেষ হয় একদিন, সত্যের শেষ নেই। ছাত্র ছাত্রীদের মেরে দেশ গঠন হয় না, বরং তাদের বিশ্বাস ও ধারণাগুলো মন দিয়ে শুনে সমাজের কল্যাণ সাধন করুন। ভয় দেখিয়ে শাসন করা যায় না, বরং ছাত্রছাত্রীদের আবেগ ও বিশ্বাসকে সম্মান করলেই দেশের কল্যাণ হবে।’

তিনি আরও লিখছেন, ‘জীবনে অনেক কিছু আমি ছাত্র ছাত্রীদের কাছে থেকে শিখেছি। অনেক সময় ভুল করলেও ছাত্রছাত্রীরাই সেটা ধরিয়ে দিয়েছেl সরাসরি বলেছে, সঠিক পথের কথা। অফুরন্ত ভালোবাসা আমি ছাত্রছাত্রীদের কাছে থেকেই পেয়েছি। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানেই থাকি না কেন, ছাত্র ছাত্রীরাই পাশে থেকেছে সব সময়l কখনো ভুল কিছু বললেও তা শুধরে দিয়েছে ছাত্রছাত্রীরাই। প্রতিবাদের সময় পাশে পেয়েছি ছাত্রছাত্রীদের, আনন্দ ও দুঃখের সময়েও পাশে পেয়েছি তাদের। ভুল থেকে সত্যের পথ আমাকে সবসময় ছাত্রছাত্রীরাই দেখায়। নানা কাজে দেশের যে প্রান্তেই যাই না কেন, দেখা করার জন্য ছুটে আসে ছাত্রছাত্রীরাই। বৃষ্টির দিনে যখন একলা বসে আছি, তখন একদল ছাত্র ছাত্রীর হঠাৎ আসা, অথবা পারিবারিক কোনো বিপর্যয়ের সময় ছাত্রছাত্রীদের পাশে পাওয়া, সবটাই জীবনবোধকে অনেক বেশী উদবুদ্ধ করেছে।’

শিক্ষাবিদ বলেছেন, ‘অনেক সময় ছাত্রদের বকেছি, মাথা নিচু করে শুনেছে। কোনোদিন কোনোভাবে অপমান করে নি তারা। কাজে যখন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়তে গেছি , জানতে পেরেই ছুটে এসেছে দেখা করতে কত ছাত্র ছাত্রী। আসলে আমি ভুল করলে, আমার ছাত্র ছাত্রীদের কষ্ট হয় , তারা আমাকে আবেদন করে সঠিক পথে আসতে, আমার দুঃখে তারা মর্মাহত হন, পাশে এসে দাড়ায় নীরবে। ছাত্রছাত্রীরা জানে ‘ঠিক’ কে ‘ ঠিক’ বলতে, তারা জানেন সত্যই পথl’