ঢাকা: ঘরে ফেরা। এবারও সেই বাইকের সওয়ারি হয়ে। তবে সঙ্গে নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার। করোনা আক্রান্ত মাকে সুস্থ করে বাড়ি আনল ছেলে। এই ছবিও হল ভাইরাল।

পাঁচদিন আগের কথা। গোটা বিশ্ব চমকে গিয়েছিল পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে বাইক আরোহীকে দেখে। বরিশালের ঝালকাঠির বাসিন্দা জিয়াউল হাসান তাঁর অসুস্থ মা সেলিনা পারভীনকে নিয়ে এভাবেই হাসপাতাল গিয়েছিলেন। করোনা আক্রান্ত মায়ের অক্সিজেন মাত্রা কমছিল। লকডাউনে কোনও সাহায্য মিলবে না এটা ধরে নিয়েই অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ মাকে বাইকে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান হাসান। তাঁর বাইক চালানোর মুহূর্ত হয় ভাইরাল।

পাঁচদিন পর একটা ভালোলাগা মুহূর্ত বরিশালের শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাইরে দেখা গেল। সেই মা এখন সুস্থ হয়ে ছেলের মোটরবাইকে চেপেই ফিরলেন বাড়ি। তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিয়েছে ছুটি।

ঝালকাঠির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা পারভীন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল বাড়িতে। ছেলে জিয়াউল হাসান জানান, মায়ের অক্সিজেন লেভেল নেমে যায় ১৭ এপ্রিল। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। এই অবস্থায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে মোটরসাইকেলে করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। মা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আগে যেখানে অক্সিজেন লেভেল ছিল ৭০, এখন তা রয়েছে ৯৬-তে। করোন রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেদিন যেভাবে মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম তার ছবি যারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মায়ের চিকিৎসার বিষয়ে পুলিশ সদস্য ও হাসপাতালের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিয়াউল হাসান।

জানা গিয়েছে, হাসান যখন পিঠে অক্সিজেন সহ তাঁর মাকে নিয়ে বাইক চালাচ্ছিলেন, সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুল। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ছবি তুলেছিলেন। মুহূর্তে সেই ছবি ভাইরাল হয়।

পাঁচদিন আগে পরে দুটি মুহূর্ত ভিন্ন। জীবন হাতে করে জীবন ছিনিয়ে আনার এই লড়াই কত কাহিনি লেখকের কলম ও কী বোর্ডে চলে এসেছে তা কে বলতে পারে। আপাতত মায়ে ছেলে বাড়ি ফিরেছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.