ঢাকা: রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম৷ তবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশ৷ এমনই দেশের সুপ্রিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি হয়ে ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা৷ সংখ্যালঘু এই বিচারপতি দেশত্যাগ ঘিরে তীব্র আলোড়িত রাজনৈতিক মহল৷ এতদিন আলোচনা ছিল তিনি অসুস্থ তাই ছুটিতে যাচ্ছেন৷ দেশ ছাড়ার আগে মুখ্য বিচারপতি জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ৷

শনিবার ঢাকা থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে তিনি একটি চিঠি সংবাদ মাধ্যমে দিয়ে যান৷ তাতে লেখা হয়েছে, ‘আমি একটু বিব্রত। আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমি চাই না, বিচার বিভাগ কলুষিত হোক। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি। কারও প্রতি আমার কোনও বিরাগ নেই। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকুক, এটাই আমি চাই।’

এরপরেই আলোড়ন তীব্র ছড়ায়৷ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার চিঠি থেকে পরিষ্কার, তিনি আওয়ামি লিগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেছেন৷

চিঠিতে প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, ‘ আমি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও একটু শঙ্কিত বটে।‘ বিচারপতি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।’

কী কারণে বিতর্ক?
বিতর্কের কেন্দ্রে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী৷ এতে বলা হয়েছিল, কোনও বিচারপতিকে অপসারণ করতে হলে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অসমর্থের অভিযোগ বিশেষ কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হতে হবে। আর ওই তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।

বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷ এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে৷ দাবি ওঠে, মুখ্য বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়ার৷

শনিবার অস্ট্রেলিয়া চলে যাওয়ার আগে মুখ্য বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা চিঠিতে লিখে গিয়েছেন, ‘ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও