মুম্বই: ২০১৮ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়। অভিষেক টেস্টে শতরান। সবকিছু স্বপ্নের মতোই চলছিল। বাধ সাধল গোঁড়ালির চোট, সঙ্গে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো যোগ হল ডোপিং ব্যান। কেরিয়ারের শুরুতে এমন একটা বছর (২০১৯) ভুলতে চাইছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান পৃথ্বী শ। সব বাধা পেরিয়ে ফের বাইশ গজে নিজেকে প্রমাণে মরিয়া মুম্বইকর এই ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ড সফরে কামব্যাকও করেছেন সম্প্রতি। কিন্তু করোনার জেরে আপাতত বাইশ গজে তালা। এমন সময় ক্রিকেট ছাড়া একেবারেই মন ভালো নেই পৃথ্বীর।

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে পৃথ্বী জানালেন তাঁর মন খারাপের কথা। তরুণ ক্রিকেটার চাইছেন শীঘ্রই সবকিছু যাতে স্বাভাবিক হয়ে যায়। পৃথ্বী জানালেন, ‘আমি সত্যিই ক্রিকেটকে ভীষণভাবে মিস করছি সঙ্গে দেশের ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিকে। কিন্তু আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে গোটা পৃথিবীর মানুষ একটা মহামারীর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ প্রত্যেককে আমার কুর্নিশ।

তবে এই লকডাউন পিরিয়ডে শারীরীক কসরত করে নিজেকে ফিট রাখছেন পৃথ্বী। নিজের জন্য তৈরি রেখেছেন যথাযথ ডায়েট প্ল্যান। এছাড়াও তাঁর ব্যাটিংয়ের পুরনো ভিডিও দেখে ভুল শুধরে নেওয়ারও চেষ্টা করছেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। কয়েকজন কিংবদন্তী অ্যাথলিটের আত্মজীবনী এই সময় সঙ্গী পৃথ্বীর। নিজেকে ফিট রাখা ছাড়াও লকডাউন পিরিয়ডে রান্না শিখছেন তিনি, জানিয়েছেন ডান-হাতি ওপেনার। এছাড়া প্লে-স্টেশনেও বেশ কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন অভিষেক টেস্টে শতরানকারী ব্যাটসম্যান। একইসঙ্গে পৃথ্বী জানিয়েছেন, এটাই যথাযথ সময় অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের যথাযথ পরিকল্পনা তৈরি করার।

সাক্ষাৎকারে পৃথ্বী জানান, ‘টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক আমার জীবনের বিরাট মহত্বপূর্ণ একটা ঘটনা। তবে আমার মনে হয় না এরপর যা যা ঘটেছে তার জন্য আমি ফোকাস থেকে সরে গিয়েছি। ডোপিং ব্যানের মতো ঘটনাকে হয়তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, কিন্তু গোঁড়ালির চোট একেবারেই আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। আমি একটা জিনিস বুঝেছি জীবনে একই সময় সকলকে খুশি রাখা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।’

পাশাপাশি পৃথ্বীর কথায়, ‘সমালোচনা জীবনের একটা অঙ্গ। সমালোচনা থেকে ইতিবাচক অংশ খুঁজে নিয়ে তোমায় জীবনে উন্নতি করতে হবে। ২০১৯ খুব একটা ভালো যায়নি আমার জন্য। আমি ব্যাটেই এই খারাপ সময় কিংবা সমালোচনার জবাব দিতে চাই। কঠিন সময় মানুষের স্বভাবের পরীক্ষাও নেয়। আমি কৃতজ্ঞ আমার বাবা, আমার কাছের বন্ধু, আমার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কাছে। কঠিন সময় যারা সর্বদা আমার পাশে থেকেছে।’

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV