মেলবোর্ন: ২০১৮ থেকে ধরলে পরিসংখ্যান বলছে ৬০ শতাংশ টেস্ট ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে চার-দিনের মধ্যেই। আর এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই পাঁচ-দিনের পরিবর্তে টেস্ট ম্যাচকে চারদিনে কমিয়ে আনার ভাবনায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। ২০১৭ সালেই আইসিসি’র তরফে স্বীকৃতি পেয়েছিল চার-দিনের টেস্ট ম্যাচ। তবে পাকাপাকিভাবে ক্রিকেটের গভর্নিং বডি’র এই পরিকল্পনাকে নিয়ে দু’ভাগ ক্রিকেট মহল। পক্ষে-বিপক্ষে সুর চড়াচ্ছেন প্রাক্তন থেকে বর্তমান ক্রিকেটাররা। এবার চার-দিনের টেস্টের বিরোধীতায় মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা স্পিনার ন্যাথান লায়ন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নয়া সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যেমন এখনই চার-দিনের টেস্ট ম্যাচের প্রস্তাবের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড আবার বিষয়টি আবেগ দিয়ে বিচার করতে বারন করেছে। এমতাবস্থায় লায়ন চারদিনের টেস্ট নিয়ে নিজের মত পোষণ করেছেন। তারকা অজি স্পিনারের কথায়, গত দশকে সেরা কিছু উত্তেজক টেস্ট ম্যাচ আমি খেলেছি যেগুলো পঞ্চমদিনে গড়িয়েছে।

পাশাপাশি লায়নের কথায়, টেস্ট ম্যাচ চারদিনে পরিবর্তিত হলে ড্র’য়ের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে ২০১৪ অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত এবং ওই একই বছরে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার উত্তেজক জয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে মর্নে মর্কেলকে আউট করে অস্ট্রেলিয়াকে সেই ম্যাচে কাঙ্খিত জয় এনে দিয়েছিলেন রায়ান হ্যারিস।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে লায়ন জানিয়েছেন, ‘আমি কখনোই চার-দিনের টেস্টের সমর্থক নই। টেস্ট চার-দিনের হলে ড্র’য়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। আমার মতে টেস্টের পঞ্চমদিন ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘পাঁচ-দিনের টেস্ট ক্রিকেটারদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয় ক্রিকেটারদের। পার্কে হাঁটার মত সহজ বিষয় নয় এটা।’

পাশাপাশি আবহাওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করেন অজি অফ-স্পিনার। ‘ইদানিং টেস্ট ম্যাচের উইকেট আগের তুলনায় অনেক বেশি ফ্ল্যাট হয়। যা ব্যাটসম্যানদের পক্ষে বেশি সহায়ক। স্বাভাবিকভাবেই এমন পিচে স্পিনারদের সুবিধা পেতে অনেক বেশি অপেক্ষা করতে যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে পঞ্চমদিনেও পৌঁছয়।’ জানিয়েছেন লায়ন।