স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: রাজ্যে বিধানসভা উপনির্বাচনের তিন কেন্দ্রে বিজেপির শোচনীয় হার। আর এরপরেই উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপির বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। ঘটনার সময় তাঁর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন কয়েক জন বিজেপির কর্মী। তাঁদেরকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার নৈহাটিতে।

সম্প্রতি নৈহাটির বিজেপি কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, বিজেপির মন্ডল সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ নিয়ে জেলা সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের উপরে চূড়ান্ত অসন্তোষের ফলেই নৈহাটির মামুদপুরে অবস্থিত বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের বাড়িতে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে হামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই হামলায় বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা জড়িত আছে।

বিজেপি জেলা সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের অভিযোগ, “উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই যেহেতু আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে, বাড়ির জানালা, দরজা, আসবাবপত্র, দুটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমার বাড়িতে উপস্থিত কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে প্রচন্ড মারধর করা হয়েছে, সেহেতু এই হামলার ঘটনায় তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যুক্ত আছে। তবে বিজেপির কিছু কিছু মানুষ যারা ভেতরে ভেতরে এখন তৃণমূলকে মদত দিচ্ছে, তারা ও এই হামলার ঘটনায় যুক্ত। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মিলে আমার বাড়িতে তারা হামলা করেছে। আমি নৈহাটি থানার পুলিশ এবং দলের রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। তবে আমি আতঙ্কিত নই। রাজনীতি করতে এসেছি, ভয় পেলে চলবে না। এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এবং তৃণমূলকে সুবিধা করে দিতে চায় যারা সেই সব মুখোশধারি বিজেপি কর্মীরাই জড়িত। আমি চাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।” যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, নৈহাটি এলাকার বিজেপির দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে ওদের দলের অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে, সেই ক্ষোভের কারণে ওদের জেলা সভা নেত্রীর বাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিজেপি কর্মীরাই। এদিন ফাল্গুনী পাত্রের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায় ব্যাঙ্গ করে বলেন ,” আজকের ঘটনা সম্পূর্ভাবেই বিজেপির গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফল। বিজেপি তে যারা এখনো মণ্ডল হতে পারেননি ঘোষ রয়েছে তারাই ফাল্গুনী পাত্রের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আর এটা যে ঘটবে তা ফাল্গুনী পাত্র ভালো করেই জানতেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এই ধরনের ভাঙচুরে বিশ্বাস করে না এই ধরনের রাজনীতি আমরা করি না।

আর ফাল্গুনী পাত্র যদি অভিযোগ করে থাকেন, যে তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপিতে ঢুকে এই কাজ করছে তাহলে সেটাও বিজেপির ব্যর্থতা। আমরা এর দায়িত্ব কেনও নেবো। বিজেপি নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে যে সমস্ত তৃণমূল কর্মীকে নিজেদের দলে নিয়েছিল তাদের দায়িত্ব আমরা নেবো না। এটা সম্পূর্ণ ভাবেই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের ফল। যারা এখনও বিজেপি তে মণ্ডল সভাপতি হতে পারেননি তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” তবে দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের মধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নৈহাটি থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও