স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: অবৈধ ভাবে বালি তোলার অভিযোগ জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া তোড়ল পাড়ার শোভাবাড়ি এলাকায়। দীর্ঘ দিন থেকে ওই এলাকায় পাঙ্গা নদী থেকে বালি মাটি তোলা হচ্ছে। খবর পেয়ে অভিযানে নামে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর৷ কিন্তু ট্রাকের সামনে গিয়েই হতবাক আধিকারিকেরা। ট্রাকের মধ্যে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের ব্যানার লাগিয়ে রীতিমত অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান চলে এই নদীতে। বালি বোঝাই ট্রাক বাজেয়াপ্ত করে জরিমানাও করা হয়। তারপরেও ফের একই কায়দায় বালি তোলার কাজে নেমে পরে বালি পাচারকারীরা৷ এদিন পাঙ্গা নদী থেকে মোট দুটি ট্রাক বাজেয়াপ্ত হয়। বেলাকোবা ও অরবিন্দ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় কুমার পাড়া ও ডাঙ্গা পাড়ার করলা নদীতেও এদিন অভিযানে নামে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর।

একটি ট্রাকে চলছে বালি তোলা আরও একটি ট্রাকে চলছে মাটি তোলা। দুটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিকেরা। ফিরে আসতে গিয়েই নজরে পড়ে আরও একটি ট্রাক। সেই ট্রাকেও চলছে বালি তোলা। তবে অনেকটাই আড়াল করে। ওই এলাকায় করলা নদীর উপর দিয়ে রেল সেতুর ঠিক গোঁড়া থেকেই চলছিল বালি তোলার কাজ৷

লাগাতার বালি তোলার ফলে সেতুর ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন ওই এলাকায় করলা নদীতে অভিযান চালিয়ে মোট তিনটে ট্রাক বালি ও মাটি সহ বাজেয়াপ্ত করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রলার দিয়ে নদীর বালি নিয়ে যেতে যেতে নদী সংলগ্ন রাস্তা ভেঙে গেছে। বেশ কিছুদিন আগেই প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ করে এলাকায় শোভা বাড়ি মোড় থেকে উত্তর শোভা বাড়ি এলাকা পর্যন্ত এক কিমি রাস্তা নতুন ভাবে তৈরি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লাগাতার ট্রলার বোঝাই বালিমাটি যাতায়াতের কারণে রাস্তায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তা যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি এলাকায় ধুলো বালির সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেকের শ্বাস কষ্ট দেখা দিয়েছে৷ এই ধরণের অভিযান লাগাতার করা প্রয়োজন। না হলে ফের একইভাবে বালি তুলবে পাচারকারীরা।