স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: উদ্ধার হল কয়েকশ বস্তা নকল সিমেন্ট। আটক হল ২ জন। মঙ্গলবার ওই কারখানায় হানা দেয় বি.গার্ডেন থানার পুলিশ। তখনই নামী ব্র‍্যান্ডের আড়ালে ওই জাল সিমেন্ট এর সন্ধান মেলে। অবৈধ ওই সিমেন্ট কারখানায় নামী দামী কোম্পানির নষ্ট হয়ে জমে যাওয়া বাতিল সিমেন্ট গুঁড়ো করে তার সঙ্গে মাটি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ফের নতুন বস্তায় প্যাকিং করে আবার বাজারে বিক্রি করা হত বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার রমরমিয়ে চলছিল। কারবার চালাচ্ছিল আসগার নামের এক যুবক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসতেই পালিয়ে যায় গুদামে কর্মরত কর্মীরা। পরে সেখানকারই এক কর্মীর থেকেই জানা যায় অবৈধভাবেই দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চলছিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এদিন মোট তিনটি কারখানা সিল করে দেয় পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হল কারখানায় থাকা কয়েকশ বস্তা বিভিন্ন নামী কোম্পানীর জাল সিমেন্ট। কলকাতায় জাল সিমেন্ট তৈরির কিংপিন পাপ্পু খানের এই ঘটনায় যোগ রয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে। জানা গেছে, হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনের কাছে ফোরশোর রোডে একটি গোডাউন তৈরি করে এরা।

পাশের একটি পুরানো গোডাউন নিয়ে ওই জাল সিমেন্টের কারবার ফেঁদেছিল দুই স্থানীয় বাসিন্দা নূর আলম ও জাহিদ খান। এদের সহযোগী ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঘটকপুকুরের বাসিন্দা মহম্মদ আসগর। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্ন সিমেন্ট কোম্পানী থেকে আসা সিমেন্ট বড় গোডাউনে পড়ে থেকে জমাট বেঁধে গেলে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়। এরা বাজার থেকে মূলত সেই ড্যামেজ জমাট বেঁধে যাওয়া সিমেন্ট কিনে নিত সস্তায়। এরপর নিজেদের কারখানায় নিয়ে এসে সেই জমাট বাঁধা সিমেন্ট গুঁড়ো করত। তারপর সেই সিমেন্ট গুঁড়োর সঙ্গে দুবাই থেকে আনা একটি কেমিক্যাল ও গঙ্গা মাটি মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে নতুন বস্তায় ভরা হত।

বাজার থেকে নিয়ে আসা হত নামী ব্র্যান্ডের সিমেন্টের ব্যবহার করা খালি বস্তা। এরপর তাতে এই জাল সিমেন্ট ভরা হত। এভাবেই সেই জাল সিমেন্ট চলে যেত বিভিন্ন দোকানে। এদিন দুপুরে খবর পেয়ে শালিমার স্টেশন সংলগ্ন ফোরশোর রোডের ৫টি কারখানায় হানা দেয় হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার পুলিশ। পুলিশ হানার খবর পেয়েই দুটি কারখানায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায় শ্রমিকরা। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদিন পুলিশ ৫০০টিরও বেশি জাল সিমেন্টের বস্তা বাজেয়াপ্ত করেছে।