বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশন৷ সেখানকার হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে জঙ্গি হামলার তদন্তে উঠে এল দক্ষিণ এশিয়ার বেআইনি অস্ত্র তৈরির দুই কেন্দ্রের নাম৷ একটি মুঙ্গের অন্যটি  দারা আদম খেল৷ ভারত ও পাকিস্তানের বেআইনি অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত এই দুই এলাকা৷

arms-3দারা আদম খেল- প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা
পাকিস্তানের উপজাতি সংরক্ষিত অঞ্চলটি পরিচিত Federally Administered Tribal Areas (FATA) বা ফাটা নামে৷ এই অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র পেশোয়ার৷ যা একইসঙ্গে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেরও রাজধানীও৷ আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী ফাটা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শহর দারা আদম খেল৷ এলাকাটি পাখতুন, আফ্রিদি ও আদমখেল উপজাতি অধ্যুষিত৷  পেশোয়ার থেকে অল্প দূরে পাকিস্তানের অন্যতম বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কেন্দ্র দারা আদম খেল৷ জঙ্গিদের নয়নের মনি এই শহর৷

dara-arms-1এলাকার তিন চতুর্থাংশ বাসিন্দা এই বেআইনি পেশায় জড়িত৷ সন্ত্রাস দীর্ণ পাকিস্তান৷ এখানে সহজে আগ্নেয়াস্ত্র কেনা যায়৷  দারা আদম খেল সেই বেআইনি অস্ত্রের যোগানদার৷ শুধু পাকিস্তান নয় আফগান তালিবানদেরও অস্ত্র সরবরাহ হয় এখান থেকে৷ মাত্র ১০ দিনেই দারা আদম খেলের কারিগররা অত্যাধুনিক যে কোনও আগ্নেয়াস্ত্রের নকল তৈরিতে ‘এক্সপার্ট’৷ দামও অনেক কম৷ তাই নাশকতার দুনিয়া Darra arms এর কদর বেশি৷ অঞ্চলটি এখন জঙ্গিদের অন্যতম ভরসা৷  অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান থেকে পেন গান তৈরিতে রীতিমতো সিদ্ধহস্ত দারা আদম খেলের বাসিন্দারা৷ অত্যন্ত ঝুঁকিবহুল এলাকা৷ এলাকার প্রতিটি ঘরেই রয়েছে বেআইনি অস্ত্র কারখানা৷ পেশোয়ার ও উপজাতি বহুল এলাকায় স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই প্রকাশ্যে অস্ত্র বিক্রির কেন্দ্র ছিল৷ পরবর্তী সময়ে যা পাকিস্তানের অন্যতম কুটির শিল্প হিসেবে পরিণত হয়েছে৷
মুঙ্গের-কম দামের আগ্নেয়াস্ত্র কেনার শহর
বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে উঠে আসে মুঙ্গেরের নাম৷ বিহারের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরটির লাগোয়া অঞ্চলে রমরমিয়ে হয় ‘কাট্টা’ বিক্রি৷ কাট্টা-মানে দেশীয় পিস্তল৷ যার বেশি ব্যবহার হয় উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের অপরাধ জগতে৷ স্থানীয় দৌলতপুর, বাইসর সহ বিভিন্ন গ্রামে কাট্টা তৈরি কুটির শিল্পের তকমা পায়৷ অর্ডার মিললে একে-৪৭ ও একে-৫৬ ধরণের রাইফেল তৈরিতেও কম যায়না মুঙ্গেরের কারিগররা৷ মুঙ্গেরি আর্মসের ক্রেতা মূলও মাওবাদীরা৷ একইসঙ্গে উত্তরপূর্ব ভারতের কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীও ক্রেতা৷ এক্ষেত্রে উঠে আসে নাগা সংগঠন এনএসসিএন(খাপলাং) গোষ্ঠীর নাম৷

munger-armsদুশো বছর ধরে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে চলেছে মুঙ্গের৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এই ব্যবসা চাঙ্গা হয়েছিল৷ ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের সময় মুঙ্গেরের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হয়৷ পরে তা বন্ধ করে দেয় সরকার৷ স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা কর্মহীন হয়ে পড়েন৷ সেই সুযোগে বেড়ে ওঠে দেশী বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ব্যবসা৷ যা পরবর্তী সময়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে৷ নেপাল সীমান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক রুটে পাটার হয় এই আগ্নেয়াস্ত্র৷ অন্য একটি রুট হল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার৷ ঝাড়খণ্ড হয়েও পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে মুঙ্গেরের অস্ত্র৷ আর উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর, আজমগড়, সুলতানপুর, বারাণসী, সন্ত কবীর নগর, ফৈজাবাদ ও জৌনপুর হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছড়িয়ে পড়ে মুঙ্গেরি কাট্টা৷

গুলশনের জঙ্গি হামলা তদন্তে ভারত ও পাকিস্তানের এই দুই বেআইনি অস্ত্র তৈরির কেন্দ্রের কথা উঠে এসেছে৷ তদন্তে প্রকাশ, জেএমবি জঙ্গিদের চাঁইরা ভারতেই রয়েছে৷ তারা ভারতের মাটি থেকেই বাংলাদেশে হামলার ছক করেছে৷ সেক্ষেত্রে মুঙ্গের ও দারা আদম খেল নাম দুটি নিয়ে বিশেষ ভাবিত গোয়েন্দারা৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।