মাদ্রিদ: ছ’ফুট এক ইঞ্চির মানুষটাকে আর স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুর তে-কাঠির নীচে দেখা যাবে না৷ রিয়াল মাদ্রিদের এক নম্বর জার্সিধারী ইকার ক্যাসিয়াস আগামী মরশুমে এফসি পোর্তোতেই খেলবেন৷ স্প্যানিশ জায়ান্টদের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে যাচ্ছেন ‘দ্য সেন্ট’৷

রিয়ালের সদ্য প্রাক্তন হওয়া অধিনায়ক ও প্রথম একাদশের নিয়মিত গোলকিপার, রবিবাসরীয় দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর বিদায়ের কথা জানিয়ে দিলেন৷ রিয়ালের জার্সিতে ৫০০টি ম্যাচ খেলা ক্যাসিয়াস বিদায়লগ্নে আবেগপ্রবণ হয়ে পরলেন৷ আটকাতে পারলেন না চোখের জল৷ কী করেই বা আবেগে সামলাবেন তিনি? মাদ্রিদের মস্তোলেসে জন্মানো বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন৷ তাঁর ফুটবলে হাতেখড়ি স্পেনের এই ক্লাবেই৷ স্পেনের বি ও সি টিমে খেলে ১৯৯৯-এ সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন৷ শেষ হয়ে গেল একটা দীর্ঘ অধ্যায়৷

casilla

ক্যাসিয়াসের টুইটার অ্যাকাউন্টের কভার পিকচারে তাঁর ছবির কোলাজ দিয়ে বড় করে লেখা ‘উনা ভিদা’৷ যার মানে জীবন৷ নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন ক্যাসিয়াস৷ ফেলে আসলেন স্মৃতি-সাফল্য-ব্যর্থতার ইতিহাস৷ বিদায়বেলায় ক্যাসিয়াস বলছেন,‘ আমি শেষবারের মতো এই অসাধারণ স্টেডিয়ামে এলাম আপনাদের গুডবাই বলতে৷ আমি আর রিয়ালের থাকলাম না৷ পোর্তোতে চলে যাচ্ছি৷ পোর্তোর কোচের ভালোবাসার টানেই আমি ওখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম৷ পোর্তোকে সব ট্রফি জেতানোর চেষ্টাই করব আমি৷ তবে আমি যে ক্লাবটা ছেড়ে যাচ্ছি সেখানে আমি শুধু স্পোর্টসম্যান হওয়ার শিক্ষাই পাইনি, এরা আমাকে শিখিয়েছে কী করে একজন ভালো মানুষ হওয়া যায়৷ মাদ্রিদের ফ্যানেদের হাজার-হাজারবার ধন্যবাদ বলতে চাই৷ প্রতিটা ট্রফি ওদের৷ দলের ভালোসময় ওরা আমার সঙ্গে ছিল৷ ঠিক একই ভাবে দলের খারাপ সময়েও ওদের সমর্থন আর ভালোবাসা পেয়েছি৷ আমি বিশ্বের যে প্রান্তে যাই না-কেন,সবসময় ‘হালা মাদ্রিদ’ বলেই গলা ফাটাব৷ আমাকে ভালো গোলকিপার নয়, ভালো মানুষ হিসেবেই সবাই মনে রাখুক৷ আমি এটাই চাই৷’

স্পেনকে বিশ্বকাপ ও ইউরো কাপ জেতানো ক্যাসিয়াস রিয়ালকে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (২০০০,২০০২ ও ২০১৪), পাঁচবার লা লিগা ( ২০০১, ২০০৩, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১১) ও একবার ক্লাব বিশ্বকাপ (২০১৪) দিয়েছেন৷ ক্যাসিয়াসের বিশ্বস্ত হাতই রিয়ালকে ‘লা ডেসিমা’ অর্থাৎ দশমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিল৷ তাই রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে ক্যাসিয়াসের নাম স্বর্নাক্ষরেই লেখা থাকবে৷