কলকাতা: দেশজুড়ে করোনার দাপট অব্যাহত। মারণ ব্যাধির সংক্রমণে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। দিন যতই যাচ্ছে ততই পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হচ্ছে। আর এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে এখনও পর্যন্ত কতদিন করোনাভাইরাসের দাপট অব্যাহত থাকবে সেই বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তার একটি মডেল বা রুপরেখা তৈরি করল খড়গপুর আইআইটির গবেষকরা। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ডঃ অভিজিৎ দাস এই মডেলটি তৈরি করেছেন। এই মডেলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লজিস্টিক মডেল।’

এই মডেলের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে গোটা দেশে এখনও কতদিন পর্যন্ত করোনার ভয়ানক সংক্রমণ থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, করোনা পরিবর্তী অধ্যায়ে মানুষের জীবনযাত্রা,স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনীতির হাল কেমন হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে এই মডেল। এমনটাই আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকদের।

ডঃ দাসের আরও দাবি, ভারতের মতো জনবহুল দেশে এখনই কমবে না করোনার দাপট। এখনই করোনা সংক্রমণ সমান্তরাল পর্যায়ে পৌঁছবে না। এর গতি হ্রাস পেতে সেপ্টেম্বর মাস অবধি লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। তারপরেও পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে এখনই বলা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। তবে সবটাই নির্ভর করছে আমাদের সচেতনতা এবং সর্তকতা বিধির উপর, জানিয়েছেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির এই অধ্যাপক।

তবে যতদিন না পর্যন্ত এর কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন অবধি করোনাভাইরাস কোনওভাবেই কোনও রিজিয়নকে স্বস্তি দেবে না। সারাদেশে এর সংক্রমণ থাকবে অব্যাহত। শুধু তাই নয়, কম্পিউটার সায়েন্সের ইঞ্জিনিয়ার ওই গবেষক আরও জানিয়েছেন, সারা দেশের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সবথেকে বেশি দাপট দেখাবে,দিল্লি,মহারাষ্ট্র, গুজরাট, রাজস্থান,মধ্যপ্রদেশ এবং আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও।

কারণ, এই কয়টি রাজ্যে প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। লকডাউনে কাজ হারিয়ে তাঁরা এখন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। ফলে দেশজুড়ে লকডাউন থাকলেও সঠিক ভাবে তা না মানায় করোনার সংক্রমণ উত্তোরত্তর বেড়েছে বৈকি কমেনি বলেই মনে করেন তিনি। আর এক একদিনে রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। যার ফলে আগামী দিনগুলি সাধারণ মানুষ কীভাবে চললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেই বিষয়ে একটি সম্যক ধারণা দিতে পারে তাঁর তৈরি এই মডেল। দাবি করেছেন এই গবেষক।

অন্যদিকে, এই বিষয়য়ে আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর ভিরেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন, বর্তমানে আমরা সকলেই একটা গভীর অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আগামীতে কী ভাবে চলবে আমাদের জীবনযাত্রা তা কেউ জানে না। এই অবস্থায় স্ট্যাটিস্টিকাল মডেল অনেকটাই সহযোগীতা করবে ভবিষ্যৎ এর পরিকল্পনা করতে। আগামী দিনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা,সেমেস্টার কীভাবে চলবে সেই বিষয়েও ধারণা দেবে এই মডেল।

তিনি আরও বলেন,” দেশে প্রতিদিন করোনা সংক্রামিত রোগীদের তালিকা তৈরি করে তার গড় ভিত্তিতে এই মডেলটি উদ্ভাবন করেছি আমরা।” এই আবিস্কার কাজে দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।