বেঙ্গালুরু: প্রায় ৬ মাস হয়ে গেল, বিশ্বে হদিশ মিলেছে করোনা ভাইরাসের। চিন, আমেরিকা, ব্রাজিল, ভারত একের পর এক দেশে থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের। বহু মৃত্যুর সাক্ষী থাকতে হয়েছে।

তবে, সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিভিন্ন উপায়ে সমস্যার সমাধান বের করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে একটা বড় সমস্যার সম্মুখীন চিকিৎসকেরা। তাঁদেরই সবথেকে বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফলে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাই চিকিৎসক ও আক্রান্ত দু’পক্ষেরই সুবিধার কথা মাথায় রেখে এক বিশেষ যন্ত্র আবিষ্কার করেছে আইআইটি।

মাদ্রাস আইআইটি-র এক হেল্থকেয়ার স্টার্ট আপ তেরি করেছে এই যন্ত্র। রোগীদের হেল্থ প্যারামিটার পরিমাপ করার জন্য এই যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এতে রোগীর তাপমাত্রা, অক্সিজেনের পরিমাণ, হার্ট রেট ও রেসপিরেশন মাপা যাবে। এটি একেবারে সঠিক মাত্রা পরিমাপ করতে পারবে বলে জানা গিয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্যই মূলত এই ডিভাইস তৈরি করা হচ্ছে।

আইআইটি মাদ্রাস ও HELYXON এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই ডিভাইস। ডিভাইসের নাম OXY2. বর্তমানে এই যন্ত্রের বিক্রিও শুরু হয়েছে। এতে দূরে থাকা রোগীর শারীরিক অবস্থা মনিটর করতে পারবেন চিকিৎসকেরা। এটি একটি পোর্টেবল ও ওয়্যারলেস ডিভাইস, যা আঙুলে সহজে পরে ফেলা যায়।

আর এতে যে ডেটা উঠবে, তা দেখা যাবে মোবাইলে। ব্লু টুথের সাহায্যে কানেক্ট করা যাবে ওই ডিভাইস। সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেমের সাহায্যেও মনিটরিং করা যাবে। হাত থেকে মাপা যাবে তাপমাত্রা আর আঙুল থেকে অক্সিজেন লেভেল ও অন্যান্য পরিমাপ দেখা যাবে।

হাসপাতালে মনিটরিংয়ের জন্য এক লক্ষ টাকার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার বদলে সহজেই এই ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে। আইআইটি মাদ্রাজের Healthcare Technology Innovation Centre-এর অধ্যাপক মোহনাশঙ্কর শিবপ্রকাশম বলেন,’ এরকম অনেক জিনিস বাজারে পাওয়া যায়। আমাদের এই ডিভাইস একেবারে সঠিক পরিমাপ করতে পারবে।’

এর দাম হবে ২৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে। কনফিগারেশনের উপর নির্ভর করবে দাম। বাড়িতে, হাসপাতালে, কোভিড কেয়ার সেন্টারে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। এটি সহজেই একজন রোগী আঙুলে পরে নিতে পারবেন। এর ফলে চিকিৎসকেরা রোগীর কাছে না গিয়েও তাঁর শারীরিক অবস্থা জানতে পারবেন।

ডাক্তারের স্মার্টফোন কাছাকাছি থাকলে, ব্লু টুথেও মাপা যাবে সবকিছু। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে একটি অ্যাপের মাধ্যমেও মনিটর করা যাবে। একটি সেন্টার থেকে কয়েক হাজার রোগীর স্বাস্থ্যে নজর রাখা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক জানিয়েছেন, এই ডিভাইস নিরাপদ ইলেকট্রনিক ডিভাইস হিসেবে CE সার্টিফিকেট পেয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, হাসপাতালে ব্যবহার করা যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করে তাঁরা দেখেছেন যে এই ডিভাইসের ফলাফল একেবারে সঠিক আসে।

যাঁরা হোম আইসোলেশনে থাকছেন বা সেরে ওঠার পে বাড়ি চলে যাচ্ছেন, তাঁরা হাসপাতালে না গিয়েও সব পরিমাপ করতে পারবেন এই ডিভাইস দ্বারা। সহজেই নিতে পারবেন চিকিৎসকের পরামর্শ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও