খড়্গপুর: দেশেরে পাশাপাশি রাজ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ৷ তাই সংক্রমণ রুখতে খড়্গপুর আইআইটিতে বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হল৷ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ৷ বন্ধ থাকবে গবেষণাগারও৷

তবে ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা বিসি রায় টেকনোলজি হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে৷ কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না৷ এমনকি ভিতরেও ঢুকতে পারবেন না৷

যদিও বি-টেক পড়ুয়াদের অনলাইনে ক্লাস চলছে৷ কিন্তু বিপাকে পড়েছেন গবেষক পড়ুয়ারা৷ কারণ গবেষণা তো আর অনলাইনে করা যায় না৷ গবেষক পড়ুয়াদের দাবি, দেশে লকডাউন শুরুর আগে থেকেই ক্লাস বন্ধের পাশাপাশি গবেষণাও বন্ধ করার নির্দেশ জারি করেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ৷ সেই থেকে পড়ুয়াদের গবেষণা বন্ধ৷ গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে গবেষণাগার পুরোপুরি বন্ধ৷ এতে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে৷

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে ৭ দিনের জন্য আইআইটি ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আইআইটি কর্তৃপক্ষ৷ সেই মত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা হয়৷ কিন্তু এরই মধ্যে আরও কয়েকজন করোনা আক্রান্ত হন৷ ফলে ক্যাম্পাস বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হল৷

গোটা রাজ্যেই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। প্রতিদিন ৩ হাজার বা তারও বেশি সংখ্যায় মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসেও আতঙ্ক তৈরি করেছে করোনা। গত কয়েকদিনে একের পর ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এক সময় খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসের বিসি রায় হাসপাতালের ৬ চিকিৎসকের শরীরেও করোনার সংক্রমণ মেলে। সব মিলিয়ে সেই সময় ক্যাম্পাসের ৪০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ ফলে ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে স্যানিটাইজ করে খড়গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ।

সোমবারের রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলায় একদিনে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ হাজার ৩ জন৷ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ৩,২১১ জন৷ তার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন৷

তবে একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩,০৮৪ জন৷ এই পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ২২৩ জন৷ সুস্থতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬.৫৫ শতাংশ৷ এই মুহূর্তে রাজ্যে অ্যাক্টিভ আক্রান্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬৯৩ জন৷

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।