নয়াদিল্লি: ব্যর্থ উদ্যোক্তা, স্ব-ঘোষিত দেশপ্রেমিক। পপ গায়ক থেকে ওয়াইন মেকার। সুনীলদের নতুন কোচ ক্রোয়েশিয়ার ইগর স্টিমাচের ঘটনাবহুল জীবনের নানা অধ্যায় অবাক করবে ভারতের ফুটবল অনুরাগীদেরও। কে বলতে পারে, স্টিমাচের জীবনের ওঠাপড়ার কাহিনী পরবর্তীতে উদ্বুদ্ধ করবে সুনীল, ঝিঙ্গানদেরও। যা হয়তো বদলে দেবে ভারতীয় ফুটবলের চালচিত্র।

কিন্তু কে এই ইগর স্টিমাচ? এআইএফএফ টেকনিক্যাল কমিটির বিচারে স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের জুতোয় পা গলানো স্টিমাচ ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার স্বর্ণযুগের ফুটবল দলে ডিফেন্সের একজন প্রধান স্তম্ভ। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে ১৯৯৮ হাকান সুকেরের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে তৃতীয়স্থান অর্জন করেছিল ক্রোটরা। সেই দলে রক্ষণভাগে নেতৃত্বের ব্যাটন ছিল স্টিমাচের হাতেই।

আরও পড়ুন: World Cup 2019: অভিজ্ঞতায় লারাকে ছুঁতে চলেছেন গেইল

কিন্তু মাঠের মতই মাঠের বাইরে জীবনও সমান বর্ণময় ইগর স্টিমাচের। একজন সক্রিয় পেশাদার ফুটবলার হয়েও ২০০০ একটি বেটিং চক্র তৈরি করেছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে পাঁচ বছর পর স্টিমাচের তৈরি বেটিং কোম্পানি একটি ব্যাঙ্কও লুঠ করেছিল। এরপর পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলেন বটে কিন্তু বেশিদিন মনোনিবেশ করতে পারেননি। এরপর একজন সফল ওয়াইন মেকার হিসেবে স্টিমাচ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজেকে।

পাশাপাশি গান-বাজনার শখ তাঁর আগাগোড়াই ছিল। ১৯৯৮ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর গলায় গান পরিচিতি পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়ায়। স্টিমাচের অতিরঞ্জিত ব্যক্তিত্ব ইংল্যান্ডে তাঁর কেরিয়ার শুরুতেও সমান জপ্রিয় করে তুলেছিল। অভিষেক মরশুমেই প্রিমিয়র লিগে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সমর্থকদের বিচারে ওই মরশুমের একাদশ ডার্বি কাউন্টির সর্বকালের সেরা একাদশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ২০১৪ ক্লাবে স্টিমাচের অবদানের কথা মাথায় রেখে একটি লাউঞ্জ তৈরি করা হয় ডার্বি কাউন্টিতে।

আরও পড়ুন: World Cup 2019: অভিজ্ঞতায় লারাকে ছুঁতে চলেছেন গেইল

তবে কেরিয়ারে তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং পারফরম্যান্সের সংঘাত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ২০১৩। তাঁকে সমকামী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন ফুটবল মাঠে তাঁর সার্বিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। এরপর দেশব্যাপী সমকামী বিবাহের প্রতিবাদ জানিয়ে দেশব্যাপী গণভোটে অংশ নিয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ। যা পরবর্তীতে তাঁর জনপ্রিয়তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এছাড়া দেশপ্রেমিক হিসেবে স্টিমাচ নিজেকে দাবি করেছিলেন দেশের একটি সংবাদ ম্যাগাজিনে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। পরম্পরা ভেঙে জাতীয় দলকে নিয়ে স্লোভেনিয়ায় কোচিং করিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: দলে খামতি নিয়েই বিশ্বকাপে ভারত, মত গম্ভীরের

এহেন ইগর স্টিমাচের প্রশিক্ষণেই বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে চতুর্থস্থানে উঠে এসেছিল ইউরোপের ফুটবল শক্তিটি। এমনকি ২০১৪ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্লে-অফে পৌঁছয় মদ্রিচরা। কিন্তু অলে-অফে খারাপ ফলের কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন স্টিমাচ। এছাড়াও ইরান, কাতার প্রভৃতি দেশে কোচিং করালেও সাফল্য খুব বেশি পাননি কেরিয়ারে। তাই বছর একান্নর স্টিমাচকে কোচ করায় প্রথমটায় ভ্রূ কুঁচকেছিলেন সেদেশের অনেকেই।

কিন্তু এআইএফএফ টেকনিক্যাল কমিটির মতে, বিশ্বকাপ খেলা একজন ফুটবলার শুধু নন। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ফুটবলারদের একসময় গুরুদায়িত্ব সামলেছেন স্টিমাচ। তাই ভারতীয় দলের কোচের পদে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কেই বা হতে পারেন।