নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ভোটের উত্তাপ৷ তারই মাঝে চলছে শাসক বিরোধী তরজা৷ একে অন্যকে গায়েলে ব্যস্ত যুযুধান দুই শিবির৷ অন্যতম ইস্যু বালাকোট থেকে রাফায়েল৷ এই আবহেই মঙ্গলবার কংগ্রেসের সভাপতিকে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ জনজীবনে রাহুল গান্ধীকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন তিনি৷

অরুণ জেটলির মতে দেশের সুরক্ষা নিয়ে মোলিক বোধটুকু নেই কংগ্রেস সভাপতির৷ সর্বভারতীয় চ্যানেলের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন যিনি, তিনিই জানেন না দেশের সুরক্ষাক স্বার্থে কিছু গোপনীয়তা থাকে৷ সব জিনিস প্রকাশ্যে বলা যায় না৷ এই বোধ যায় নেই তাঁর জনগণের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়া উচিত৷’’ রাহুলের মন্তব্য দেশ ও দুনিয়াজুড়ে ভারত সম্পর্কে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷

১৪ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পরই ভারত দাবি করে সন্ত্রাসবাদী হামলার পেছনে ছিল পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদ৷ নয়াদিল্লির দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দেয় ইসলামাবাদ৷ ভারতের থেকে তথ্য প্রমাণ দাবি করে তারা৷ সেসব দেওয়া সত্বেও কাজের কাজ হয়নি৷ ফলে সন্ত্রাস বন্ধে উদ্যোগ নেয় ভারত৷ ২৬শে ফেব্রুয়ারি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে এয়ার স্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ু সেনা৷ ধ্বংস করা হয় জইশয়ের বাসলাকোটের ঘাঁটি৷ শোরগোল পড়েল যায় আন্তর্জাতিক স্তরে৷

বায়ু সেনার সাফল্যকে প্রশংসনীয় বলে জানায় অন্যান্য দেশ৷ বিজেপির তরফে দাবি করা হয় এই এয়ার স্ট্রাইকে প্রায় তিনশ জন জঙ্গিকে খতম করা সম্ভব হয়েছে৷ তবে তার কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি৷ এই নিয়েই শুরু হয় শাসক বিরোধী চাপানউতোর৷ কংগ্রেস সভাপতি জঙ্গি নিধনের প্রমাণের দাবি জানায়৷ বিরোধী শিবিরকে ‘দেশদ্রোহী’র তকমা দেওয়া হয় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে৷

ভোটের বাজারে পদ্ম শিবিরের হাতিয়ার বালাকোট ঘিরে ‘দেশপ্রেমে’র হাওয়া৷ সেই বিষয়টিকে পুঁজি করে রাহুল গান্ধীকে বিঁধতে তৎপর মোদী থেকে জেটলি৷