সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনিই একমাত্র ভারতীয় যিনি অ্যাশেজের কুখ্যাত বডিলাইন সিরিজে খেলেছেন। অভিষেকেই হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি। তিনি ইফতিকার আলি খান পতৌদি। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় সম্মানের লড়াইয়ের কুখ্যাত অধ্যায়ের একমাত্র ভারতীয় অংশীদার। যিনি পরে ভারতীয় দলকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন৷

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার খুবই সংক্ষিপ্ত। মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছেন তিনটি দেশের হয়ে এবং তিনটি ইংল্যান্ডের হয়ে। ১৯৩২-৩৩ মরশুমের অ্যাশেজ (বডিলাইন) সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড দলের হয়ে একাদশে সুযোগ পান ইফতিকার আলি খান পতৌদি। যিনি নবাব অফ পতৌদি নামে পরিচিত৷ টিচ ফ্রিম্যানের সঙ্গে লর্ডসে জেন্টলম্যানের পক্ষে ১৬৫ রানের পার্টনারশিপই তাঁকে অ্যাশেজ সফরের জন্য মনোনীত করতে সাহায্য করেছিল। সিডনিতে অভিষেক টেস্টেই ৩৮০ বলে ১০২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন। টেস্টটি ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জিতেছিল। তবে ইংরেজ অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিনের বডিলাইন রণকৌশলের সঙ্গে তিনি সহমত ছিলেন না। মেলবোর্নের দ্বিতীয় টেস্টে রান পাননি (১৫ ও ৫)। তৃতীয় টেস্টেও ব্যাটে রান ছিল না (১২ ও ১০)। এরপর ইংল্যান্ডের হয়ে কোনও সিরিজেই দলে জয়গা পাননি ইফতিকার৷

এরপর অবশ্য ১৯৩২ সালের ভারতের ইংল্যান্ড সফরকারী দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে ইফতিকার আলির নামই বিবেচিত হয়৷ কিন্তু তিনি নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ড সফরের অধিনায়ক হিসেবে ফের মনোনীত করা হন। এবার শারীরিক অসুস্থতার জেরে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। অবশেষে ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে তিনি ভারতীয় দলেকে নেতৃত্ব দেন। দেশের হয়ে ওই তিনটি টেস্টে তাঁর ব্যক্তিগত এবং দলীয় পারফরম্যান্স খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে সিনিয়র পতৌদির রেকর্ড যথেষ্ট ভালো। ৪৮.৬১ গড়-সহ করেছিলেন ৮৭৫০ রান। ঝুলিতে ছিল ২৯টি সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৩৮।

ইফতিকার আলি খান পতৌদির ক্রিকেট শিক্ষা অক্সফোর্ডের ক্রিকেটার এমজি স্ল্যাটার ও পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডে ফ্রাঙ্ক ওলি’র থেকে। ১৯২৭ সালে অক্সফোর্ডে চলে যান। ব্লু অর্জনের দুই বছর পূর্বে কেমব্রিজের বিপক্ষে ১০৬ ও ৮৪ রান করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। ১৯৩১ সালে অক্সফোর্ডের হয়ে ৯৩ গড়ে ১,৩০৭ রান করেন। একই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অ্যালান র‌্যাটক্লিফ কেমব্রিজের পক্ষে ২০১ রান করে রেকর্ড গড়েছিলেন। পতৌদি অল্প সময়ের মধ্যেই রেকর্ড ভেঙে অপরাজিত ২৩৮ রানের ইনিংসটি খেলেন।

প্রথমশ্রেণির ক্রিকেটে বোম্বে ক্রিকেট দলের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন নবাব পতৌদি দ্য সিনিয়র। ছেলে মনসুর আলি খান পতৌদিও ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এটাই ভারতের পিতা-পুত্রের অধিনায়ক হবার একমাত্র নজির। ১৯৩২ সালে বিল বোজ, স্টিউই ডেম্পস্টার, জেমস ল্যাংগ্রিজ ও হেডলি ভেরিটি’র সঙ্গে তিনিও উইজডেন তাঁকে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত করেছিল।