কলকাতা: মহম্মদ হাবিব, সুভাষ ভৌমিক, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোরের সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার লাল-হলুদ শতবর্ষ অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক আলোচনাচক্রের মেজাজটা ভিন্ন হলেও পরবর্তী আলোচনাচক্রে রাশ আলগা হতে দিলেন না তিন কিংবদন্তি। ক্রিকেটে প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব থেকে শুরু করে ভারতীয় ফুটবলের পরপর দুই প্রজন্মের দুই অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া ও সুনীল ছেত্রী।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষের সেরা আবিষ্কার বাইচুং ভারতীয় ফুটবলে তাঁর পরিচিতির প্রধান এবং একমাত্র কারণ হিসেবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও তাঁর সভ্য-সমর্থকদের কথা উল্লেখ করলেন। তেমনই সক্রিয় ফুটবলার হিসেবে বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার সুনীল ছেত্রীরও সফট কর্নারে কোথাও রয়ে গিয়েছে প্রাক্তন এই ক্লাব। পরবর্তীতে মূল অনুষ্ঠানে যিনি উল্লেখ করলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষের মূল চালিকাশক্তি তাদের সমর্থকেরাই। তাঁর আরও সংযোজন, ‘এখনও তিনি তাঁর দলের ফুটবলারদের নির্দেশ দেন ওদের সমর্থকদের জয় করাই তোমাদের আসল চ্যালেঞ্জ। তাহলেই অর্ধেক ম্যাচ জয় হয়ে যাবে তোমাদের।’

আরও পড়ুন: ফের ফুটবলে বাংলায় ধারা বিবরণী

তবে দ্বিতীয় আলোচনাচক্রে মূলত মধ্যমনি হয়ে রইলেন লাল-হলুদের ‘ভারতগৌরব’ সম্মানে সম্মানিত কপিলদেব নিখাঞ্জ। আলোচনার শুরুতেই দিনকয়েক আগে তাঁকে নিয়ে করা গাভাসকরের একটি মন্তব্য নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে কপিলদেব বলেন আলোচনার বিষয় হিসেবে আজ তিনি গৌণ, শতবর্ষে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু হওয়া উচিৎ। এরপর ধীরে ধীরে ফিরলেন ১৯৯২ ইস্টবেঙ্গলের ডাকে প্রদর্শনী ম্যাচে খেলতে আসার স্মৃতিতে।

আরও পড়ুন: আসিয়ান জয়ের পর ভারতীয় ক্লাব ফুটবল এক পা-ও এগোল না, শতবর্ষে আক্ষেপ সুভাষের

যে ক্লাব তাদের শতবর্ষকে পিছনে ফেলে আসতে পারে সেই ক্লাবের সমর্থকদের কৌলিন্য যে কতটা অভিজাত, সেসম্পর্কে বলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের অনুরোধে তাঁর প্রিয় ফুটবল দল হিসেবে ব্রাজিল ও সেরা ফুটবলার হিসেবে মারাদোনাকে বেছে নেন ‘হরিয়ানার হ্যারিকেন’। তবে কপিল থাকবেন আর ক্রিকেট বাইপাস হয়ে যাবে, তা কী হয়? তাই অ্যাডাভাইসরি কমিটির প্রধান সদস্য হিসেবে আগামিদিনে কোচ বাছাইয়ের মত গুরুদায়িত্ব কি বর্তাতে চলেছে তাদের উপর। কতটা কঠিন সেই কাজ?

উত্তরে কপিল বলেন একেবারেই কঠিন কোনও কাজ। যারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাদের কাছে কোনও কাজ কঠিন নয়। যারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন থেকে বিরত থাকে, কাজ কঠিন তাদের জন্য। একইসঙ্গে ক্যারিবিয়ান সফরে উড়ে যাওয়ার আগে রবি শাস্ত্রীকে নিয়ে কোহলির মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৪৩৪ উইকেটের মালিক বলেন, অধিনায়ক হিসেবে কোহলির এমন কথা বলার বা মন্তব্যের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।