স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ‘বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস নিজের ভোট ব্যাংক তৈরী করতে দেশের নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে৷ এই বাংলায় ২ কোটি অনুপ্রবেশকারী জবর দখল করে রয়েছে৷ যারা জবর দখলকারী তারা দেশবাসীর অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার দেশবাসীর জন্য এ রাজ্যে যখন খাদ্যশস্য পাঠায়, তখন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সেই খবর এ রাজ্যের প্রকৃত মানুষদের না দিয়ে ওই অনুপ্রবেশকারীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।’ এমনই অভিযোগ করলেন এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷

তাঁর মতে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার থাকলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে না৷ কয়েক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গ। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের চলে যাওয়া দরকার। যে ২ কোটি অনুপ্রবেশকারী বাংলায় ঢুকে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের বাংলা থেকে চলে যেতে হবে৷ বিজেপি সরকার বাংলায় আসলে এনআরসি চালু হবেই৷ তখন ওই ২ কোটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিজয়বর্গীয়৷

আরও পড়ুন : জল পড়ছে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ থেকে, আধিকারিকরা বললেন ‘ডিফেক্ট নয় ডিজাইন’

তিনি বলেন যারা দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, সেই অধিকার পুনরায় ফেরত পাবেন দেশবাসী। এই তৃণমূল সরকার ২ বছর চলবে না৷ রবিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার পলতার শান্তিনগর স্কুল মাঠে নিখিল ভারত উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির এক অনুষ্ঠানে এসে একথা বলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷

এদিন কাটমানি ইস্যুতে বলতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। বিজয়বর্গীয় বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নিজেকে সৎ প্রমাণ করতে কাটমানিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে সব থেকে বেশি কাটমানি তো মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েছে। গোটা রাজ্যের ছোটবড় তৃণমূল নেতারা নিজেরা ২৫% কাটমানি নিজেরা রেখে, বাকি ৭৫% ই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিত। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বাড়িতে মানুষ কাটমানি ফেরতের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন।”

আরও পড়ুন : কাটমানি ফেরতের দাবি, তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও বিজেপির

কৈলাস বিজয়বর্গীয়র দাবি “ওই তৃণমূল নেতারা বলছেন টাকা অভিষেককে পাঠিয়েছে তারা। আর অভিষেকের কাছে টাকা যাওয়া মানেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েছে কাটমানির বিপুল অঙ্কের টাকা। তাই কাটমানির মূল টাকা দিদিমনিকেই ফেরত দিতে হবে। এখন অনেক ছোটখাট কাটমানির দায়ে অভিযুক্ত নেতা বাঁচতে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে দুর্নীতিতে জড়িত কোন নেতার বিজেপিতে জায়গা হবে না।”

তিনি বলেন, “বাংলায় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হবে। তবে যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তারা দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক। শরণার্থী আর অনুপ্রবেশকারী এক নয়। মতুয়া সম্প্রদায়কে রাজ্য সরকার প্রতারিত করেছে।” উত্তর ২৪ পরগনার পলতায় আয়োজিত নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির এই সভায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির কর্মকর্তা অম্বিকা রায় সহ অন্যান্যরা।