স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: বিজেপি বোমা ছুড়লে আমরা রসগোল্লা ছুড়বো না। পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে জলপাইগুড়ি বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই তোপ দাগলেন তৃণমূল যুব নেতা।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে রাজনৈতিক হানাহানিতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ময়নাগুড়ি। অভিযোগ, জলপাইগুড়ি লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে তৃণমূল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ময়নাগুড়ি বিধানসভা এলাকায়। তৃণমূল কর্মীদের মারধর, বাড়ি ছাড়া করার পাশাপাশি একের পর এক পার্টি অফিস দখল করেছে বলে বিজেপির বিরুদ্ধে ময়নাগুড়ি থানায় বেশ কয়েক দফার লিখিত অভিযোগ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

এমনকি তৃণমূলের জেলা সভাপতির গাড়ি ভাঙচুর, যুব সভাপতিকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টির ঘটনাও থানায় অভিযোগ হয়েছে। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা যুব সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকশো যুব কর্মী পাঁচটি পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে যুব তৃণমূল কর্মীরা। সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি ও ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।

সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত সাত বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা হার্মাদরা জেগে উঠে জার্সি বদল করে ফের তাণ্ডব শুরু করেছে। আমাদের কর্মীদের মারধর, জরিমানা করার পাশাপাশি বাড়ির মহিলাদের বিধবা করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুই কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়ে ছিল। আমারা আজ তাদের ফের ঘরে ফেরালাম। ওই পার্টি অফিসগুলির সামনে বসে এলাকার মানুষের সঙ্গে মিটিং করলাম। বিজেপি যদি মনে করে বোমাগুলি দিয়ে দখলের রাজনীতি চালাবে, তাহলে আমরা কিন্তু বসে থাকবো না। আমাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গিয়েছে। এবারে এমন প্রতিরোধ হবে বিজেপি পালিয়ে কুল পাবে না।

বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা যুব মোর্চার সভাপতি শ্যাম প্রসাদ জানান, মিথ্যে অভিযোগ করছে তৃণমূল। তাদের কর্মীরা রাতের অন্ধকারে নিজেদের পার্টি অফিসে বিজেপির পতাকা লাগাচ্ছে। আর সকালে নেতারা গিয়ে সেগুলি খুলে ফেলছে। সব নাটক। তৃণমূল নেতাদের গাড়ি সার্চ করলেই পাওয়া যাবে কারা বোমা এবং অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। তৃণমূল জন বিচ্ছিন্ন। তাদের পায়ের নিচে মাটি সরে গিয়েছে তাই এই মিথ্যে অভিযোগ।

এসপি জলপাইগুড়ি অমিতাভ মাইতি টেলিফোনে জানান, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমি নিজেও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত পুলিশের টহলদারি চলছে।