স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা:  নির্বাচনের কাজে শিক্ষকদের অংশগ্রহন নতুন বিষয় নয়। প্রত্যেক নির্বাচনেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ভোটের কাজে লাগান হয় শিক্ষাকর্মীদের। কিন্তু এবার লোকসভা নির্বাচনে তারা চান তাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হোক। নচেৎ তারা নির্বাচনী কাজে যাবেন না।

কারণ নির্বাচনী কাজে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। থাকে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা এমনটাই দাবি বিভিন্ন শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলির। যার অন্যতম কারণ নিরাপত্তার অভাব। তাই এবার বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনেরই দাবি, ভোটের কাজে ডাকলে তারা যাবেন কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বারা তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

এবিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাইনের বক্তব্য, ” গতবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের কাজে গিয়ে যে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা এই নিরাপত্তা চাইছি। পঞ্চায়েত নির্বাচন করাতে গিয়ে উত্তর দিনাজপুরে এক শিক্ষকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। প্রকাশ্যে ভোট লুঠ হয়েছে। তাই আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এই দাবি জানিয়েই আমরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছি। “

নির্বাচনের পরেই বিভিন্ন বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে দাবি তোলে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ওপরও আস্থা রাখছেন। কিন্তু দুবের এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছেন না শিক্ষকরা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাদের ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে।

সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন ” গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে পদ্ধতিতে যে অবস্থায় শিক্ষকদের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তা খুব সুখকর নয়। তাই যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে সেখানেই একমাত্র আমাদের পাঠানো হোক। গতবার অনেককেই দুষ্কৃতিদের বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয়েছে। এমনকি চড় থাপ্পরও খেতে হয়েছে। আমরা চাইনা ফের তারা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক। তাই ভোটের কাজে আমাদের যেখানেই পাঠানো হোক তাতে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীদের দিয়ে নিরাপত্তা যেন সুনিশ্চিত করা হয়। “

ভোট কর্মীদের জন্য সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী বাহিনী সহ সুনিশ্চিত নিরাপত্তার লিখিত প্রতিশ্রুতি দাবি করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়েছে পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষক সংগঠন গুলি জানিয়েছে, ২০১০ সালে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজের বাইরে রাখা হয়েছে। কিন্তু তা মান্যতা পায় নি। পদ অনুযায়ী দায়িত্বের সমবনটন প্রয়োজন বলেও দাবি করা হয়েছে তাদের তরফ থেকে। এই দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস সরকারও।