এটিকে-মোহনবাগান বনাম নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড ম্যাচের বিশ্লেষণে কলকাতা ২৪x৭-এ কলম ধরলেন আইএসএলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার মেহতাব হোসেন

এককথায় বলতে গেলে একঘেঁয়ে ফুটবল খেলছে এটিকে-মোহনবাগান। বিহাইন্ড দ্য বল ফুটবল অনেক হয়েছে, এবার এটিকে-মোহনবাগানের খেলার ধরন বদলাতে হবে বলে আমার মনে হচ্ছে। আর এটিকে-মোহনবাগান এদিন যাদের সঙ্গে খেলল অর্থাৎ, নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডও একইরকম ফুটবল খেলে। ওরাও কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলে। তবে ওদের দলের সবচেয়ে দুই বিধ্বংসী ফুটবলার লুইস মাচাদো এবং ফেডেরিকো গালেগো, যাদের নিয়ে চিন্তা ছিল তারাই আজ হারিয়ে দিল হাবাসের দলকে।

এডু গার্সিয়া আজ চোটের জন্য ছিল না ঠিকই। তবে এডু গার্সিয়া থাকলেও ম্যাচের ফল খুব একটা পালটাতো বলে মনে হয় না আমার। কারণ গার্সিয়া থাকলেও এটিকে-মোহনবাগানের খেলার ধরন তো আর বদলাতো না। হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে ও থাকলে সেটপিস কিংবা থ্রু বলের ক্ষেত্রে সুবিধা পেত এটিকে-মোহনবাগান। কিন্তু একজন ফুটবলারের অনুপস্থিতি যদি হারের কারণ হয়, তাহলে সেই দলের বাকিদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আর একটা চ্যাম্পিয়ন দলের থেকে এটা কখনোই প্রত্যাশিত নয়। সবমিলিয়ে মুম্বই চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে ড্র করে যে সুযোগটা দিল তার বিন্দুমাত্র সদ্ব্যবহার করতে পারল না হাবাসের দল।

আর নর্থ-ইস্টের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে বলতে গেলে এককথায় বলব দুর্দান্ত। কোনওভাবে জেরার্ড নাসের সঙ্গে হয়তো ফুটবলারদের মানসিকভাবে বনিবনা হচ্ছিল না। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দু’টো ম্যাচে জয়ের গোটা কৃতিত্ব কিন্তু খালিদের একার নয়। দলটাকে তৈরি গিয়েছে নাস। তাই নর্থ-ইস্টের এই পারফরম্যান্সের পিছনে নাসেরও অবদান রয়েছে বলে আমার মনে হয়। কারণ ওদের শুরুটাও দুর্দান্ত হয়েছিল। মাঝখানে হয়তো কোনও কারণে কোচের সঙ্গে ফুটবলারদের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নাস সরে যাওয়ায় সেটা ফের কাটিয়ে উঠেছে দলটা।

আর হাবাসের ক্ষেত্রে বলব তাঁর দলে কোয়ালিটি ফুটবলারের তো অভাব নেই। কিন্তু ফুটবলারদের সেই কোয়ালিটি কোচকে বার করে আনতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা বিশেষে খেলার ধরন বদলাতে হবেই। কিন্তু কোচ যদি গোঁ ধরে থাকেন যে না আমি এভাবেই খেলব তাহলে যারা সুযোগ নেওয়ার ঠিক নিয়ে চলে যাবে। এডু গার্সিয়া বাদেও এই দলে অনেক ভালোমানের ফুটবলার তো রয়েছে। আর এবারের আইএসএলকে অন্যান্যবারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। ব্র্যান্ড অফ ফুটবল হচ্ছে চলতি আইএসএলে। বেঙ্গালুরু-ওডিশার ম্যাচে খেলা দেখে বোঝার উপায় ছিল না কোনটা বেঙ্গালুরু আর কোনটা ওডিশা।

সবমিলিয়ে হাবাসকে খেলানোর ধরন বদলাতে হবে। নইলে হয়তো দ্বিতীয়স্থানটাও হাতছাড়া হতে পারে এটিকে-মোহনবাগানের। গোয়া দারুণ এগোচ্ছে, হায়দরাবাদও এগোচ্ছে। নর্থ-ইস্টও ওদের ধরে ফেলল। সবমিলিয়ে এটিকে-মোহনবাগানকে সতর্ক হতে হবে, নইলে মুশকিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।