স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় ভিড় বাসে খোয়া গিয়েছিল ব্যাগ৷ যে ব্যাগে ছিল ইন্টারভিউ দেওয়ার দরকারি কাগজপত্র৷ বাস থেকে নেমেই ছুটে যান ট্রাফিক পুলিশের কাছে৷ মাত্র ২০ মিনিটেই ওই খোয়া যাওয়া ব্যাগটি উদ্ধার করে পুলিশ ফিরিয়ে দেয় যুবতীকে৷ যার ফলে দক্ষিন ২৪ পরগনার সুস্মিতা সামন্ত নির্দিষ্ট সময়ে যথাস্থানে পৌঁছে চাকরির ইন্টারভিউটা দিতে পারলেন৷

লালবাজার পুলিশ সূ্ত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকাল৷ ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে আটটা ছুঁইছুঁই।সেই সময় ঠাকুরপুকুর বাজারের কাছে কর্মরত ছিলেন ঠাকুরপুকুর ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট বিজয় বাগচী এবং কনস্টেবল অভিজিৎ চৌধুরী। তখন তাঁদেরকে কান্না ভেজা চোখে এক যুবতী এসে জানান, এই মাত্র তাঁর পিঠের ব্যাগটি খোয়া গিয়েছে ভিড় বাসে। সেই ব্যাগে তার মোবাইল ফোন ও টাকা রয়েছে৷ এছাড়াও ছিল চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য তাঁর মার্কশিট, অ্যাডমিট কার্ড-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি।

দক্ষিন ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা সুস্মিতা সামন্ত৷ রবিবার ওই যুবতী তার বাবা-মার সঙ্গে আসছিলেন সল্টলেকে৷ এদিন সল্টলেকে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরির ইন্টারভিউ ছিল।তাঁরা ডায়মন্ড হারবার থেকে একটি বাসে উঠেছিলেন৷ ওই বাসে থেকে ঠাকুরপুকুর বাজারে নামেন৷ কারন এখান থেকে ফের বাস বদল করে সল্টলেক যেতে হবে৷ বাসের ভিড় ঠেলে থেকে তারা নামতে পারলেও ধাক্কাধাক্কিতে সুস্মিতার পিঠের ব্যাগটি খুলে পড়ে যায় বাসের ভিতরেই৷ অভিযোগ,নামতে না নামতেই ছেড়ে দেয় বাসটি।

এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই সুস্মিতার ইন্টারভিউ শুরু। খোয়া যাওয়া ব্যাগে রয়েছে তার মূল্যবান নথিপত্র৷ স্বভাবতই খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সুস্মিতা।তবে পুলিশকে তিনি বাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি বলতে পেরেছিলেন৷ সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত সার্জেন্ট বিষয়টি জানান ঠাকুরপুকুর ট্রাফিক গার্ডে। অভিযোগ পাওয়ার পরই ঠাকুরপুকুর ট্রাফিক গার্ড লালবাজার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে। খবর পাঠানো হয় ডায়মন্ড হারবার ট্রাফিক গার্ডেও। দেখামাত্রই বাসটিকে থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৪ নম্বর বাস স্টপের সামনে বাসটিকে দেখতে পেয়ে দাঁড় করান কনস্টেবল অরূপ দে।

খবর পেয়ে সুস্মিতা ও তাঁর বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ১৪ নম্বর বাস স্টপেপৌঁছন ট্রাফিক সার্জেন্ট বিজয় বাগচী। বাসের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় সেই পিঠের ব্যাগটি। খোয়া যায়নি কিছুই। ব্যাগটি ফেরত পেয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানান সুস্মিতা ও তার পরিবার৷ এবং বলেন আপনারা সহযোগিতা না করলে, চাকরির ইন্টারভিউটাই দেওয়া হত না৷