নয়াদিল্লি: ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদে ডাক্তার তরুণীকে গণধর্ষণ করে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর থেকে কেঁপে গিয়েছিল মানুষজন। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা সকলেই চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল দেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তারকাদের মধ্যে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন আজকের দিনেও এই ধরণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে মেয়েদের। বিভিন্ন জায়গাতে দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবিতে শুরু হয়েছিল ধর্না।

তারপরে কাটল মাত্র কয়েকটা দিন। শুক্রবার সকালে পুলিশের গুলিতে মারা গেল ওই ধর্ষণে অভিযুক্ত চারজন। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ওই চারজনকে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করে। এছাড়াও একজন পুলিশের বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে মারা যায় চারজনেই। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে গিয়েছে শুভেচ্ছাবার্তাতে। অনেকে জানাচ্ছেন ন্যায়বিচার পেল ওই তরুণী।

মূল অভিযুক্ত আরিফের মা সংবাদ মাধ্যমের সামনে জানিয়েছে যা হয়েছে ভুল হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন,”ঠিক কি হয়েছে তা জানি না। তবে আমার ছেলে চলে গেল। এটা ভুল হয়েছে।”

এছাড়া দ্বিতীয় অভিযুক্ত শিবাও মারা গিয়েছে পুলিশের গুলিতে। তার মা সংবাদমাধ্যমের সামনে চীৎকার করে বলেন,’আমার ছেলে যদি দোষী হয় তাহলে তাকে গুলি করে মারুন। ঘটনা জানার পর থেকে তিনি কেঁদে চলেছেন। যদিও তার বাবা প্রশ্ন তুলেছেন শুধুমাত্র এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কেন শাস্তি দেওয়া হল। বাকিদেরও এইভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত। কিন্তু কেন তাঁরা শাস্তি পাচ্ছে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্ত শিবার বাবা।

এছাড়াও তৃতীয় অভিযুক্ত নবীনের বাবা জানিয়েছেন গুলি করার আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া যেত। তিনি জানিয়েছেন ,অভিযুক্তদের জেলে ঢোকানোর বদলে গুলি করে হত্যা করা উচিত। কিন্তু তার আগে একবার হলেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া যেত।

অন্য আর এক অভিযুক্ত ছেন্নাকেসাভুলুর মা জানিয়েছিলেন যদি তার ছেলে সত্যি দোষী হয়ে থাকে তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। জানিয়েছিলেন যদি তার ছেলে সত্যি এই কাজ করে থাকে তাহলে যেন তার ছেলেকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তার স্ত্রী জানিয়েছেন তাকেও যেন ওই জায়গাতে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়।

তবে ঘটনা যাই হোক এই ঘটনার পর থেকে রাতারাতি শিরোনামে উঠে এসেছেন সেখানকার পুলিশ আধিকারিকেরা। অনেকে মন্তব্য করছেন হায়দরাবাদের পুলিশদের দেখে বাকিদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। ধর্ষকদের এই ধরণের শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অনেকে।