নয়াদিল্লি: ছ’বছর হল ক্রিকেট ময়দানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুক্রবার সান্তাকুমারন শ্রীসন্থের উপর থেকে উঠে গেল আজীবন নির্বাসনের খাঁড়া। আর নির্বাসন মুক্ত হয়ে ফের ক্রিকেটে ফিরতে প্রত্যয়ী জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দু’টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য। ২০১৩ আইপিএল স্পট ফিক্সিং কান্ডে নির্বাসন মুক্ত হয়ে নিজেকে টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের সঙ্গে তুলনা করলেন বছর ছত্রিশের এই পেসার।

পেজের সঙ্গে নিজের তুলনা করে শ্রীসন্থ জানালেন, ৪২ বছর বয়সে লিয়েন্ডার পেজ গ্র্যান্ড স্লাম জিতলে আমি ৩৬-এ অন্তত ক্রিকেটটা খেলতে পারি।’ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা জানালেন দেশের জার্সি গায়ে ২৭টি টেস্ট, ৫৩টি ওয়ান ডে ও ১০টি ওয়ান ডে খেলা এই ক্রিকেটার। মুম্বই স্পিনার অঙ্কিত চবন এবং হরিয়ানার স্পিনার অজির চান্ডেলার সঙ্গে ২০১৩ আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে বিসিসিআই আজীবন নির্বাসনে পাঠিয়েছিল এই জোরে বোলারকে।

শুক্রবার শীর্ষ আদালত তাঁর অনুকূলে রায়দান করলে শ্রীসন্থ জানান, ‘আশা করি বিসিসিআই সুপ্রিম কোর্টের রায়কে যথাযোগ্য সম্মান দিয়েই আমায় ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি দেবে। আমি এখন যে কোনও ধরনের ক্রিকেটে কামব্যাক করতে চাই।’ কিন্তু এক্ষেত্রে শ্রীসন্থ অনুরাগী কিংবা ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কাছে তাঁর বয়স একটা ফ্যাক্টর হলেও শ্রীসন্থ একেবারেই তা উড়িয়ে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলার কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও স্কটল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেট খেলার প্রস্তাব রয়েছে তাঁর কাছে৷ সেখানে পারফরম্যান্স করে কেরলের রঞ্জি দলে ফিরতে চান শ্রীসন্থ।

আজীবন নির্বাসনের আওতা থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও শীর্ষ আদালত শ্রীসন্থকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেনি৷ আদালতের তরফে বিসিসিআইয়ের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায় ঘোষণার দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে শ্রীসন্থের শাস্তির মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করার৷

গত বছর অগস্টে এক সদস্যের বেঞ্চ শ্রীসন্থের উপর থেকে নির্বাসন তুলেদিয়েছিল৷ পরে কেরলা হাইকোর্টে রায় পুনর্বিবেচনা করে নির্বাসন বহাল রাখে৷ শ্রীসন্থ শীর্ষ আদালতে সেই রায়ের বিপক্ষে আবেদন জানালে বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি কেএম জোসেফের ডিভিশনাল বেঞ্চ তারকা ক্রিকেটারের অনুকূলে রায় দান করে৷

শ্রীসন্থের হয়ে সওয়ালে সিনিয়র আইনজীবী সলমন খুরশিদ আদালতে জানান, ২০০০ সালের ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে জড়িত থাকা টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনের আজীবন নির্বাসন যদি রদ হতে পারে, তবে শ্রীসন্থের ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না কেন৷ শ্রীসন্থ নিজে এই মর্মে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার কার্যত শেষ৷ তাই তাঁকে অন্তত ক্লাব ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেওয়া হোক৷