করাচি: শুধু ভারতীয় ক্রিকেট নয়, বিশ্বক্রিকেটকে উচ্চতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া৷ কিংবদন্তি ক্রিকেট প্রশাসক না-থাকলে শোয়েব আখতারের ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ হয়ে যেত অনেক আগেই৷ বৃহস্পতিবার একথা স্বীকার করল পাকিস্তান৷ প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান তৌকির জিয়া৷

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রাক্তন আইসিসি প্রেসিডেন্ট তথা প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার সাহায্য না-বাড়ালে ২০০২-২১ মরশুমেই শেষ হয়ে যেত শোয়েব আখতারের ক্রিকেট কেরিয়ার৷ ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল পিসিবি-কে জানিয়েছিল যে, স্পিডস্টার আখতারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তদন্ত করা হবে৷ কিন্তু বিসিসিআই-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তখন আইসিসি-র মসনদে৷ যিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আইসিসি-র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডালমিয়াই শোয়েবের কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করেন৷

তৌকির জিয়া বলেন, ‘জগমোহন ডালমিয়া তখন আইসিসি-র সভাপতি৷ তিনি ছিলেন যথেষ্ট প্রভাবশালী৷ শোয়েব আখতারের বোলিং অ্যাকশন মামলায় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি৷ আখতারের বোলিং অ্যাকশন বে-আইনি ছিল বলে আইসিসি সদস্যরা জোর দিলেও তিনি আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন৷’ ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত পিসিবি-র চেয়ারম্যান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তৌকির জিয়া৷

জিয়া আরও বলেন, ‘ডালমিয়া পিসিবি-কে সমর্থন করায় অবশেষে আইসিসি স্বীকার করে নিয়েছিল যে, আখতারের জন্মের পর থেকেই তার বোলিংয়ের চিকিত্সার ত্রুটি ছিল৷ যার ফলে তার হাইপার কনুই প্রসারিত হয়েছিল৷ তার পর শোয়েবকে খেলতে দেওয়া হয়েছিল।’

ডালমিয়ার দ্বার ‘চাকিং’ মুক্ত হয়ে ফের পাকিস্তানের জার্সিতে খেলার সুযোগ পান শোয়েব৷ শুধু খেলেননি, বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের রাতের ঘুম কেড়ে নেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস৷ এই ঘটনার পর এক দশক দাপিয়ে খেলে যান তিনি৷ ১৯৯৭ রাওয়াপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হওয়া আখতার শেষ টেস্ট খেলেছেন ভারতের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে৷ এই সময়ের ব্যবধানে দেশের হয়ে ৪৬টি টেস্টে ১৭৮টি উইকেট নেন আখতার৷

টেস্ট থেকে অবসর নিলেও আরও চার বছর সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেছেন শোয়েব৷ ২০১০-এ শেষ আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচ খেললেও শেষ ওয়ান ডে খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত৷ ২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীন অবসরের কথা ঘোষণা করেন কিংবদন্তি এই পাক পেসার৷ কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে শোয়েব ঘোষণা করেন এই বিশ্বকাপই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট৷ যদিও অবসর ঘোষণার আগেই দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেন আখতার৷ বিশ্বকাপে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই শেষবার পাকিস্তানের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস৷ মোট ১৬৩টি ওয়ান ডে ম্যাচে ২৪৩টি উইকেট নেন পাকিস্তানি স্পিডস্টার৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.