নয়াদিল্লি : হিন্দি চাপিয়ে দিলে দেশের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হবে। মনে করেছে সিপিএম পলিটবুরো ৷ আর তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ‘এক দেশ, এক সংস্কৃতি, এক ভাষা’ মন্তব্যের সমালোচনা করল পলিট ব্যুরো।

পলিটবুরো তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, ভাষাগত বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতের আন্তর্জাতিক পরিচয়। ভাষার বৈচিত্রের কারণে ভারতের ঐক্য এবং সংহতি দুর্বলও হয়নি। পলিট ব্যুরো বলেছে, হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসাবে বিবেচনার করার ভাবনা সংবিধানের ধারণার বিপক্ষে। ভারতের ভাষাগত বৈচিত্রের সঙ্গেও খাপ খায় না এমন ঘোষণা।

শনিবার ছিল হিন্দি দিবস। সেদিন প্রথমে টুইট এবং পরে সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্যের জন্য একটি জাতীয় ভাষার প্রয়োজন। যে ভাষা ভারতকে সারা বিশ্বে চেনাতে পারবে। আর হিন্দিই সেই ভাষা। পাশাপাশি তিনি সেদিন ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ঘরে ঘরে হিন্দিকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে শাহের যুক্তি, হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসাবে বিবেচনা করার দরকার যাতে কোনও বিদেশি ভাষা এবং সংস্কৃতির কাছে ভারত পরাজিত না হয়।

পলিটবুরোর বক্তব্য, সংবিধানের অষ্টম তফসিলের ২২টি ভাষার প্রতিটিই জাতীয় ভাষা। প্রতিটিকেই সমান মর্যাদা দেওয়া উচিত। একটি ভাষা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের ঐক্য এবং সংহতি বিপন্ন হবে। পলিট ব্যুরো সদস্য তথা কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বক্তব্য, বর্তমান জরুরি সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে বিজেপি সরকার নতুন বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবে বিভেদের আরেকটি ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। হিন্দিই ভারতকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে এমন দাবি অবাস্তব।

সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির অভিমত, আরএসএস’র এমন দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। গোটা দেশে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার মূলে রয়েছে আরএসএস’র মতাদর্শ।কেবল হিন্দিকেই সারা দেশে জাতীয় ভাষা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়া হলে প্রতিক্রিয়া মারাত্মক হবে বলেই মনে করছেন তিনি।