সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মিষ্টিতে লিখতেই হবে এক্সপায়ারি ডেট। এর জেরে মহা মুশকিলে পড়েছে রাজ্যের ১লক্ষ ১০ হাজার মিষ্টি ব্যবসায়ি। অভিযোগ, এমন কোনও নিয়ম চালু হলেই সরকার পক্ষের কোনও আধিকারিক লোকজন নিয়ে এসে কোনও কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে এসে দোকানে তালা লাগিয়ে দেবে। এজন্য দেওয়া হয় না কোনও নোটিশ, ফল ভোগ করে ছোট ব্যবসায়ীরা। এবারও তেমন কিছুরই আশঙ্কা করছেন রাজ্যের ছোট ছোট মিষ্টি ব্যাবসায়ীরা। তাই এনআরসি , সিএএ-র মতোই এই আইনের বিরোধিতা করবেন বলে জানাচ্ছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গ মিষ্টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রবীন্দ্র কুমার পাল বলেন, ‘রাজ্যের পঞ্চাশটা বড় দোকান দেখে যদি এই নিয়ম করা হয় সেটা মারাত্মক ভুল হচ্ছে। বড় বড় ব্যবসায়িরা তাদের দোকানে এসব করতে পারে। তাদের পক্ষে এক্সপায়ারি ডেট তৈরির জন্য আলাদা খরচ সম্ভব। ক্যাশমেমো ইত্যাদি করতে বলছে, এসব করা সম্ভব বড় মিষ্টি ব্যবসায়িদের। তেমন সংখ্যা কটা? রাজ্যে ১লক্ষ১০হাজার মিষ্টি ব্যবসায়ি রয়েছে। গ্রামের মিষ্টি দোকানে এসব কে করবে বলতে পারেন?’ সমস্যা ঠিক এখানেই। সংগঠন জানাচ্ছে, ‘একটু গ্রাম বা মফস্বলের দিকের মিষ্টির দোকানে এইসব নিয়ম লাগু হলেই সরকারি লোক কিছু না জানিয়েই চলে আসবে। তারপর সব খাবার দেখে নোটিশ না দিয়ে কোনও সতর্কতা না দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। এই নিয়ম না তুললে আমরা আন্দোলনে নামবো।’ রবীন্দ্র কুমার পাল বলেন , ‘নিয়ম হচ্ছে বলেই মানতে হবে তার কোনও মানে নেই। যদি কোনও সরকারি নিয়ম মানুষের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সে নিয়মের বিরোধিতা হবেই। যেমনটা হচ্ছে সিএএ এনআরসি নিয়ে।’

সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সম্রাটবাবু বলেন , ‘বিদেশে আমরা গিয়েছি সেখানে এমন কোনও নিয়ম করা হলে অন্তত তিনটে নোটিশ দেওয়া হয়। তারপর দোকান বন্ধ করতে বলা হয়। অন্তত ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা তো করানোই হয়। এখানে এসব কিছু হয় না। এমন হলে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে বহু মিষ্টি ব্যাবসায়ীকে।’

প্রসঙ্গত , ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (Food Safety and Standards Authority of India) এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আগামী জুন মাস থেকে স্থানীয় মিষ্টির দোকানগুলিকে বিক্রয়ের জন্য প্যাকেটজাত মিষ্টির ক্ষেত্রে মিষ্টি তৈরির তারিখ লিখতে হবে। এবং ওই মিষ্টি কতদিন পর্যন্ত ভালোভাবে খাওয়ার উপযোগী থাকবে, তা অবশ্যই করে লিখে দিতে হবে। বর্তমানে প্যাকেটজাত মিষ্টির ক্ষেত্রে লেবেলে মিষ্টি তৈরির এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

মিষ্টি ক্রেতাদের কাছে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খারাপ মিষ্টি বিক্রির অভিযাগ পেয়ে এফএসএসএআই এ বিষয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে নির্দেশিকা জারি করে। তাঁরা আরও বলেন, ফুড বিজনেস অপারেটরদের গতি প্রকৃতি এবং স্থানীয় অবস্থা দেখে প্রতিটি খাবারের ভালো থাকার তারিখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁদের এই নির্দেশিকায় প্রতিটি রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনারদের এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও